• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

আমরা প্রশাসক দিয়ে দেশ চালানো দেখতে চাই না: সারজিস

Reporter Name / ২০৯ Time View
Update : বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪

আমরা প্রশাসক দিয়ে দেশ চলতে দেখতে চাই না বলে মন্তব্য করেছেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সিটি ও পৌর কাউন্সিলর কর্তৃক ‘ছাত্র-গণহত্যা ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী সিটি ও পৌর কাউন্সিলরদের জনস্বার্থে পুনর্বহালের দাবি ও বর্তমান সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে’ আয়োজিত কাউন্সিলর সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা প্রশাসক দিয়ে দেশ চলতে দেখতে চাই না। আমলারা আমলাতন্ত্রে তাদের যতটুকু টেরিটোরি তারা সেখানে কাজ করবে। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সাথে তাদের যতটুকু পরিধি সেখানে কাজ করবে। এই কম্বিনেশন যদি না থাকে তাহলে দিন শেষে যেভাবে রাষ্ট্রের ফাংশন করার কথা সেভাবে ফাংশন করা সম্ভব নয়। আমরা আমাদের জায়গা থেকে যে জিনিসটা পেতে চাই, আপনাদের (কাউন্সিলর) মধ্যে এমন কারও কথা আগামীতে যেন আমরা না শুনি যারা ক্ষমতা পেয়ে আবার সেই ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেছে। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে জনপ্রতিনিধিরা যেভাবে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত, তাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্দশা যেভাবে বুঝে, তাদের সাথে যেভাবে মিশে সেটা কোনও আমলা কেন যারা ওই বিভিন্ন অফিসে বসে থাকে- যত বড় অফিসারই হোক না কেন তাদের পক্ষে বুঝা সম্ভব না।

জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতা প্রদানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুধু কাউন্সিলর নয় মেম্বার হোক, চেয়ারম্যান হোক, এমপি হোক বা মন্ত্রী হোক বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্থনৈতিক কাঠামো বিবেচনায়, মানুষের খরচ বিবেচনায় নির্দিষ্ট একটি পদে একজন জনপ্রতিনিধির মাসিক যে একটি খরচ হয় তেমন একটি স্ট্যান্ডার্ড খরচ তাকে সম্মানী ভাতা হিসেবে অবশ্যই দেওয়া উচিত। আপনি যদি সেটা না দেন আর চারদিক থেকে এটার জন্য ওটার জন্য চাপাচাপি করেন তাহলে দিনশেষে তাকে অন্য কোনও না কোনও উপায় বের করতে হয়। আমরা আমাদের জায়গা থেকে আপনাদের শুধু একটি কথাই বলি, জনগণ এবং যারা জনগণের জায়গা থেকে কাজ করবে আমরা তাদের মধ্যে ব্রিজ হয়ে কাজ করতে চাই। আমরা তাদের কথাগুলো পুরো দেশের সামনে তুলে ধরতে চাই।

সারজিস আলম বলেন, আমরা আমাদের জাতীয় নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে একটা আহ্বান করি— সেটা হচ্ছে পুরো বাংলাদেশের মানুষের নতুন একটি রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তাদের মনের ভেতর থেকে একটি প্রত্যাশা… আপনারা কে কোথায় যাবেন সেটি আপনাদের বিষয় কিন্তু মনে রাখবেন আপনারা যদি সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখে আগামী বাংলাদেশে কাজ না করেন তাহলে শেখ হাসিনার পরিস্থিতিটা একবার অনুমান করবেন। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী যদি কাজ না করেন তাহলে এক বছর, দুই বছর, পাঁচ বছর পার পেয়ে যাবেন কিন্তু তারপর পরিস্থিতি এবং অবস্থা তার (শেখ হাসিনা) মতোই হবে। তাহলে তার অবস্থাই যদি এমন হয় তাহলে আমাদের মতো ছোটখাটো মানুষের অবস্থান জনগণ কোথায় নিয়ে ফেলবে সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনও যৌক্তিক দাবিতে আমরা আপনাদের সাথে আছি। আমরা সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকবো। আমরা আরও বিশ্বাস করি দেশের মানুষকে সর্বোপরি বাংলাদেশ রাষ্ট্রটিকে সামনে রেখে আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে আমাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। যৌক্তিক দাবিতে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা এখানে যারা বসেছি সবাই একটি বিষয়ে একমত না সেটা হচ্ছে, কাউন্সিলরদের পরিবর্তে যে এডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার নিয়োগ করা হবে এই বিষয়ে আমরা একমত না। এটা আমাদের স্পষ্ট অবস্থান। কারণ এই যে একটা আমলাতান্ত্রিক কাঠামো রয়েছে, এই কাঠামোতে আমাদের যে হাল চাষ করা ভাই আছেন, যে তাঁতি আছেন, কামার, কুমার, রেমিট্যান্স যোদ্ধা, গার্মেন্টসকর্মী আছেন তারা এই এডমিনিস্ট্রেটিভ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যেতে চায় না। তারা যেতে চায় না বলেই তারা আপনাদেরকে (কাউন্সিলর) নির্বাচিত করেছেন।

এডমিনিস্ট্রেটিভদের দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের অভাব পূরণ সম্ভব না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমার প্রতিনিধি এমন হবে যার সাথে আমার প্রতিদিন চায়ের দোকানে দেখা হবে। যার সাথে আমার বাজারে গেলে দেখা হবে। জনপ্রতিনিধিদের সাথে এমন সম্পর্কই আমরা চাই। তাই আমরা বলতে চাই নয়টা-পাঁচটা অফিস করা এডমিনিস্ট্রেটিভদের দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের অভাব কোনভাবেই পূরণ করা সম্ভব না।

তিনি বলেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সফল করা ও পরবর্তী বাংলাদেশ গড়তে আপনাদের (কাউন্সিলর) অবদান অপরিসীম। আপনারা এই বাংলাদেশের সাথে থাকেন। আমরা যখন সবাই বাংলাদেশের পক্ষে থাকবো তখন ভারতে বসে দালালরা ফ্যাসিস্টরা যত ষড়যন্ত্রই করুক না কেন কখনোই কিছু করতে পারবে না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই আহ্বায়ক বলেন, আমি আপনাদের কাছে একটা অনুরোধ করবো, আপনারা দয়া করে এমন রাজনীতি করবেন যে রাজনীতি করলে ক্ষমতায় না থাকলেও পালিয়ে যেতে না হয়।

বাংলাদেশ সিটি করপোরেশন কাউন্সিলর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জাহিদের সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ পৌর কাউন্সিলর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ সিটি করপোরেশন কাউন্সিলর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী গোলাম কিবরিয়াসহ সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন এলাকার কাউন্সিলররা।


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “আমরা প্রশাসক দিয়ে দেশ চালানো দেখতে চাই না: সারজিস”

  1. Hey There. I discovered your weblog the usage of msn. That is a really smartly written article. I will be sure to bookmark it and come back to read more of your useful info. Thanks for the post. I’ll definitely return.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।