
নিজস্ব প্রতিবেদক: “স্বাধীনতা অর্জনে যারা বিরোধিতা করেছে, তারা জাতির কাছে আজীবন ঘৃণিত থাকবে। সারা বিশ্বব্যাপী জার্মানির হিটলারকে মানুষ যেমন ঘৃণা করে, তাদেরও ঠিক সেভাবেই ঘৃণা করা হবে।” মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, “মায়ের ভাষার জন্য পৃথিবীতে আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। আমরা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে গর্বিত ও বিজয়ী জাতি।”
বর্তমান সরকারের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে মিজানুর রহমান মিনু আরও বলেন, “স্বাধীনতার পর অনেক সময় পেরিয়েছে। আমরা দেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মহান ত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরতে চাই।” লাখো বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনই তাদের প্রত্যাশা এবং এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে মন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অন্যদিকে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন করে এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বজলুর রশীদ। এরপর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কুচকাওয়াজ শুরু হয়। কুচকাওয়াজ শেষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয় এবং পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজিসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সকাল ৮টায় মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এছাড়া পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশাসহ দলীয় অন্যান্য নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।