• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি ২২ বছর পর রাজশাহীতে যাচ্ছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা নির্বাচনি প্রচারণায় আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন

শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের নিপীড়নের প্রতিবাদে অনশনে রাবি অধ্যাপক

Reporter Name / ১৭৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সারা দেশে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের নিপীড়নের প্রতিবাদে অনশনে বসেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জোহা চত্বরে তিনি অনশনে বসেন। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তিনি এখানে অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন।

ফরিদ উদ্দিন খান এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে সরব থেকেছেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের দখলদারিত্ব, আসন-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করে আসছেন। বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, প্রতীকী অনশনেও বসেছেন তিনি। গত বছরের ২৬ জুন একই চত্বরে নির্যাতনের বিরুদ্ধে অনশন করেন তিনি।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ফরিদ উদ্দিন খান ফেসবুকে অনশনের ঘোষণা দিয়ে লেখেন, ‘সারা দেশে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের চরম নৈরাজ্য ও নিপীড়নের প্রতিবাদে এবং দোষী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে আগামীকাল ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনশনে বসছি জোহা চত্বরে। দেশজুড়ে ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর একের পর এক যে নিপীড়ন আর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে, তা রীতিমতো মানবাধিকার লঙ্ঘন। এটি মেনে নেওয়া যায় না। একজন সাধারণ শিক্ষক হিসেবে আমি ব্যথিত, ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও নির্যাতিত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব মনে করছি। আপনি যদি মনে করেন এই নৈতিক দায় আপনারও। তাহলে চলে আসুন জোহা চত্বরে। ধন্যবাদ।’

আজ সকালে ফরিদ উদ্দিন একটি প্ল্যাকার্ড পাশে রেখে জোহা চত্বরে বসেছেন। সেখানে লেখা আছে, ‘শিক্ষাঙ্গনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতিবাদে অনশন।’

ফরিদ উদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের মা–বাবারা যাঁরা তাঁদের সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করার জন্য পাঠিয়েছেন, তাঁরা এ রকম পরিস্থিতিতে চরমভাবে হতাশা প্রকাশ করছেন। তাঁরা কোন নিরাপত্তায় তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবেন। চরম নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন তাঁরা। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি মনে করছেন এই ঘটনাগুলোর প্রতিবাদ করা দরকার।
ফরিদ উদ্দিন বলেন, এই ধরনের ঘটনা চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। শিক্ষার্থীদের নির্যাতন চালিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে মারধর করা হচ্ছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের মেয়াদে কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্য অনেক ক্যাম্পাসে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রশাসন বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়ে থাকেন। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের নজির চোখে পড়েনি তাঁর। আর এই কারণেই নির্যাতনকারী আরও বেশি নির্যাতন করে যাচ্ছে। তাঁরা ভয় পাচ্ছে না, কারণ, ঘটনাগুলো ঘটালে শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না।

অনশনে সংহতি জানিয়ে বসেছেন রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল মজিদ। তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনের হলগুলোয় নৈরাজ্য নিপীড়ন চলছে। এগুলোর প্রতিবাদে একজন শিক্ষক বসেছেন। তাঁরা সংহতি জানিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনাগুলো ক্যাম্পাসে বন্ধ করা উচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।