• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি ২২ বছর পর রাজশাহীতে যাচ্ছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা নির্বাচনি প্রচারণায় আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন

(রাবি) শিক্ষার্থীকে হল কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন, হিন্দু ছাত্রকে শিবির বলে হত্যার হুমকি

Reporter Name / ১৭৫ Time View
Update : বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রাবাস কক্ষে আটকে রেখে এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের পাশাপাশি ওই হিন্দু শিক্ষার্থীকে শিবির বলে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়। এমন দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হল শাখা ছাত্রলীগের নেতারা।

সোহরাওয়ার্দী হলের দ্বিতীয় ব্লকের ৩৮৩ নম্বর রুমে থাকেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কৃষ্ণ রায়। রোববার রাতে হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম ইসলামের ৭-৮ জন কর্মী কৃষ্ণ রায়ের রুমে গিয়ে তাকে রুম থেকে বের হয়ে আসতে বলে। বের হতে রাজি না হওয়ায় তার বিছানাপত্র তুলে ফেলে দিয়ে তারা অন্য বিছানা তুলে দেয়। এরপর নাইমের রুমে নিয়ে কৃষ্ণকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এ নির্যাতনের সঙ্গে হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান ও কয়েকজন কর্মী জড়িত।

ভুক্তভোগী কৃষ্ণ রায় বলেন, রাতে পড়াশোনা করার সময় হঠাৎ আমার রুমে ছাত্রলীগের কয়েকজন এসে আমার বেড ফেলে দেয় এবং আমাকে রুম থেকে বের হতে বলে। বের না হলে সোলায়মান নামে একভাই আমাকে এলোপাতাড়ি চড়থাপ্পড় দেওয়া শুরু করেন। আমি ভিডিও করতে চাইলে তিনি আমার ফোন কেড়ে নেন। এরপর জোর করে আমাকে নাইম ভাইয়ের রুমে নিয়ে যান এবং তার সামনে আমাকে কান ধরিয়ে উঠবস করান। আমাকে শিবির বলে প্রচার করে মেরে ফেলার হুমকি দেন। আমি হিন্দু জানার পর বলে, ‘তোকে এখন মেরে ফেললেও কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না।’ কৃষ্ণ আরও বলেন, আমার সঙ্গে থাকা সহপাঠী মাহবুব বিল্লাহের ফোনও তারা কেড়ে নেন। মাহবুব বলেন, ধস্তাধস্তি করতে দেখে আমি ছুটে যাই। ওই রুমে ঢুকলে তারা আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। রুম থেকে আমাকে বের করে দেয়। আধঘণ্টা পর ফোন ফিরিয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে নাইম ইসলাম বলেন, আমার রুমে নিয়ে মারধর করার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে ওই কক্ষে একটা সিটের জন্য আমার কর্মীরা গিয়েছিল। সেখানে কথা কাটাকাটি হয়েছে। কোনো মারধর করা হয়নি। বিষয়টির সমাধান করে দেওয়া হয়েছে। আরেক অভিযুক্ত সোলায়মান বলেন, একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমি ওই ছেলের পাশের কক্ষে থাকি। সেদিন ওর কক্ষে যাওয়ার পর সে ভিডিও করা শুরু করেছিল। পরে ওই ছেলের বিভাগের সিনিয়রদের সম্মুখে ভিডিও ডিলিট করিয়েছি। এরপর ঘটনাটির সমাধান হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, সেখানে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছি এবং ওই ছেলে তার সিটেই রয়েছে। সোহরাওয়ার্দী হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।