• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি ২২ বছর পর রাজশাহীতে যাচ্ছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা

প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন প্রযুক্তি ‘চ্যাটজিপিটি’

Reporter Name / ১৭৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

প্রযুক্তি শিল্পে নিত্য নতুন আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে ঝুঁকছে গুগল, মাইক্রোসফট, মেটার মতো টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। সম্প্রতি প্রযুক্তি জগতে চ্যাটবটের আবির্ভাব অভাবনীয় পরিবর্তন নিয়ে আসছে। এরইমধ্যে ২০২২ সালের নভেম্বরে ওপেনএআই নামের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান  চ্যাটজিপিটি চ্যাটবট চালু করেছে। এই এআই বট ইতোমধ্যে  নেট দুনিয়ায় তুমুল ঝড় তুলেছে।

বর্তমানে পৃথিবীর বহুল জনপ্রিয় চ্যাটবট হিসেবে  চ্যাটজিপিটিকে আখ্যায়িত করা যায়। জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এটি উন্মুক্ত করা হয়। হালে প্রতি মাসে প্রায় ৫৭ মিলিয়ন ব্যবহারকারী এটি  ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে। রয়টার্সে  প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ১০০ মিলিয়ন গ্রাহক অতিক্রম করেছে চ্যাটজিপিটি। ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর ইতিহাসে  সবচেয়ে দ্রুততম অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন ইউবিএস অ্যানালিস্টৈ লয়েড ওয়ালমসলে। অপরদিকে, সমপরিমাণ গ্রাহক পেতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটকের প্রায় ৯ মাস সময় লেগে যায়।

চ্যাটবট এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং ব্যবহার করে গ্রাহকের প্রশ্ন বুঝে স্বয়ংক্রিভাবে উত্তর দেয়। এটিকে প্রচুর ডাটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যত বেশি সংখ্যক ডাটা দিয়ে প্রশিক্ষণ করা হবে, তত বেশি দক্ষতার সঙ্গে উত্তর দিতে সক্ষম হবে এটি।

চ্যাট জিপিটিচ্যাটজিপিটির পূর্ণরূপ হলো— চ্যাট জেনারেটিভ প্রি-ট্রেইন্ড ট্রান্সফরমার। রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং ফ্রম হিউম্যান ফিডব্যাক একটি মেশিন লার্নিং কৌশল, যা দিয়ে চ্যাটজিপিটি ট্রেইন করা হয়। এই চ্যাটজিপিটি তৈরি করা হয়েছে ডিপলার্নিং  ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল জিপিটি ৩.৫-এর ওপর ভিত্তি করে।  ডিপলার্নিং এক ধরনের মেশিন লার্নিং টেকনিক, যেখানে তিন বা তিনের বেশি নিউরাল নেটওয়ার্ক স্তর থাকে। এটি ডাটা থেকে মানুষের আচরণ বোঝার চেষ্টা করে।

চ্যাটজিপিটি দ্রুততম সময়ে ব্যবহারকারীর নির্দেশে অদ্বিতীয় গল্প, স্ক্রিপ্ট, কবিতা, রচনা লিখতে সক্ষম। এমনকি যেকোনও প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে প্রোগ্রামও লিখতে পারবে। এটি আগের আলোচনাও মনে রাখতে পারে।

প্রকাশের পর থেকে বিনামূল্যে সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি প্লাস নামের পাইলট সাবস্ক্রিপশন নিয়ে এসেছে। ব্যবহারকারীরা প্রতি মাসে ২০ ডলার সাবস্ক্রিপশন ফি পরিশোধ করে নিত্যনতুন ফিচার উপভোগ করতে পারবেন। কিন্তু এটি বর্তমানে শুধু আমেরিকান গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য। অতি দ্রুত অন্যান্য দেশের ব্যবহারকারীরাও এই সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ।

পাবলিক টেস্টিংয়ের জন্য অ্যাপটির যে ভার্সন রয়েছে, সেটি ব্যবহার করে দেখা গেছে— চ্যাটজিপিটি অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে প্রশ্ন বুঝে উত্তর দিতে পারছে, ঠিক যেন মানুষের মতো। তবে কখনও কখনও ভুল উত্তর দেওয়ারও নজির রয়েছে। কারণ, যে ডাটা দিয়ে একে ট্রেইন করা হয়েছে, সেই ডাটার বাইরে প্রশ্ন করলে চ্যাটজিপিটির পক্ষে সঠিক উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে না।

অপরদিকে, প্রতিযোগিতাভিত্তিক টেক মার্কেটে মেটাও (ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান) পিছিয়ে নেই। গেলো বছরের আগস্ট মাসে ব্লেন্ডারবট-থ্রি নামের নতুন এআই রিসার্চ প্রজেক্ট  চালু করেছে। এটি সাধারণত ইন্টারনেট অনুসন্ধান করে উত্তর দিয়ে থাকে।

নেটিজেনরা চ্যাটজিপিটিকে গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের চেয়েও শক্তিশালী বলে মনে করছে। এটি গুগলের মতো অনেকগুলো লিংক সরবরাহ করে না, বরং নির্দিষ্ট সঠিক উত্তর প্রদান করে।

এই চ্যাটবটকে ঘিরে নানারকম উদ্বেগ ও সমালোচনা রয়েছে। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স প্রফেসর অরভিন্দ নারায়ণ এটিকে পচা জেনারেটর বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ হিসেবে উত্তরের কতটুকু সত্যতা রয়েছে, তিনি সেই যুক্তি টেনেছেন। তবে, ওপেনএআই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, মানুষ পরীক্ষামূলক চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করবে এবং সেই ডাটা ব্যবহার করে তারা একে ট্রেইন করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।