• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

পদ্মার গর্ভে চলে গেলো ৮৪ বছর আগের বিদ্যালয়

Reporter Name / ১৪৭ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০২১

গত বছরও বিদ্যালয় থেকে পদ্মার দূরত্ব ছিল আধা কিলোমিটার; আর এখন পদ্মার পেটে বিদ্যালয়ের একাংশ। এ অবস্থা মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ৪১নং সুতালড়ী রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। প্রমত্তা পদ্মা নদীর ভাঙনে গিলতে বসেছে ৮৪ বছর আগে গড়া মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ৪১নং সুতালড়ী রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।

শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিদ্যালয়টির এক-তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিদ্যালয়টির সম্পূর্ণ অংশ পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৭ সালে বিদ্যালয়টি উপজেলার ধুলশুড়াতে স্থাপিত হয়। পরে পদ্মানদীর অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যালয়টি ২০০৭ সালে উপজেলার সুতালড়ী ইউনিয়নে স্থানান্তরিত হয়। পরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনর্বাসন/পুনঃনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট দু’তলা পাকা ভবন নির্মিত হয়। তখন নদীর সীমানা ছিল বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৬ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্রতি বছরের মতো এ বছরও পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে প্রায় দুই মাস পূর্বে ভাঙন শুরু হয়। প্রথমে ভাঙনের তীব্রতা কম থাকলেও গত ১৫ দিন ধরে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে বেশি। ভাঙনের ফলে গত বুধবার রাতে বিদ্যালয় ভবনের এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে রক্ষা করা সম্ভব হবে না চিরচেনা বিদ্যালয়টিকে।  স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক মাসে ওই এলাকার শতাধিক পরিবার নদীভাঙনে তাদের বসতভিটা হারিয়েছেন। ভাঙনের ভয়ে ঘরবাড়ি অন্যত্র স্থানান্তর করেছেন অনেকে। এছাড়াও কৃষিজমি, বিভিন্ন ফলের বাগান ও স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয় বালিয়াগোপা গ্রামের আব্দুর রব মোল্লা জানালেন, দিন পনেরো আগেও বিদ্যালয় থেকে নদীর  দূরত্ব ৫০-৬০ ফুট ছিল। গত ১ তারিখ থেকে বিদ্যালয় ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তাতেও বিদ্যালয়টির শেষ রক্ষা হচ্ছে না। তার মতে আরও বেশিসংখ্যক  জিওব্যাগ ফেলা হলে হয়তো বিদ্যালয়টি  শেষ রক্ষা করা যেত। ঠিক একই ধরনের অভিমত, সুতালড়ী রামচন্দ্রপুর গ্রামের রুস্তম খাঁর। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি আগে থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষার উদ্যোগ নিত, তাহলে হয়তো বিদ্যালয়টিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পদচারণা পেত। দিকে শুক্রবার সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিনসহ কয়েকজন বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে আসেন।  এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরেও সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে এসেছিল। তখন পদ্মা নদী থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব ছিল প্রায় আধা কিলোমিটার।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।