• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীরা আজীবন ঘৃণিত থাকবে: রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী মিনু স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বর্ণাঢ্য র‍্যালি চট্টগ্রামে চট্টলা এক্সপ্রেসের বগিতে ‘ভয়াবহ’ আগুন শ্রদ্ধার ফুলে বীর শহীদদের স্মরণ পবা পারিলা ইউনিয়নে ১৫০ জনের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ধৈর্যেরও সীমা আছে, ইরানকে সৌদির সতর্কবার্তা ট্রেনের জন্য প্লাটফর্মজুড়ে হাজারও মানুষের অপেক্ষা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল ঘোষণা করলো মালয়েশিয়া “রাজশাহীতে জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ” শিরোনামে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদে বিবৃতি

ধসে পড়লো ৩০ মিটার এলাকা ,শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মধ্যে

Reporter Name / ২১৫ Time View
Update : সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১

৩০২ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে। এর মধ্যেই ধসে পড়েছে দুটি পয়েন্টের ৩০ মিটার এলাকা। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেওয়ার পাশাপাশি শহররক্ষা বাঁধ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার বিকেলে রাজবাড়ী শহরতলির গোদারবাজার এলাকায় এ ভাঙন দেখা দেয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।
গতকাল রোববার পর্যন্ত মোট এক হাজার ২৩৪টি বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভাঙন রোধের কাজ করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া পদ্মা নদীর তীরে দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে যেন কোনোমতেই ধসে না পড়ে, সেজন্য ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, নদীর আশপাশে প্রভাবশালীদের অনেক বালুর চাতাল রয়েছে। এগুলোর কারণে ভাঙন সৃষ্টি হতে পারে।  রাজবাড়ী পাউবো সূত্র জানায়, জেলা শহরের অনতিদূরেই পদ্মা নদী। পদ্মার তীর প্রতিরক্ষার জন্য ৩০২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকায় পদ্মা নদীর তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া একই এলাকায় ড্রেজিং করা হবে। ড্রেজিংয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৫ কোটি টাকা। কাজটি প্রথমে খুলনার শিপ ইয়ার্ড পেলেও পরে তারা দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড (ডিবিএল) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, গোদারবাজার মূল ঘাটের বাঁ দিকে ১০০ মিটার দূরে শহররক্ষা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ করা হয়েছে সিসি ব্লক দিয়ে। এই কাজের দুটি পয়েন্ট থেকে সিসি ব্লক ধসে পদ্মায় চলে গেছে। যেখানে এখন রয়েছে শুধুই বালুর বস্তা। নদীতে তেমন স্রোত না থাকলেও নদী বক্ষ দিয়ে চলাচল করছে বালুবাহী বড় বড় বাল্ক্কহেড। ধসে যাওয়া স্থানে বালুর বস্তা ফেলার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন অর্ধশতাধিক শ্রমিক। স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, নদীর তীর রক্ষা কাজ করার সময় এই এলাকায় ভালোভাবে ডাম্পিং করা হয়নি। তাড়াহুড়া করা হয়েছে। এতে করে বর্ষার শুরুতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। গোদারবাজার এলাকার বাসিন্দা রমজান খান, সাদ্দাম হোসেন, আজমত আলীসহ অনেকেই বলেন, যেখানে ভেঙেছে, সেখান থেকে শহররক্ষা বেড়িবাঁধের দূরত্ব মাত্র ১০ মিটার। এখনও বর্ষা মৌসুম পুরোদমে শুরু হয়নি। তাতেই ভাঙনের এ অবস্থা। ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে তারা খুবই শঙ্কিত। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিবিএলের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার এসএম গোলাম সারোয়ার বলেন, নদীর চরিত্র বোঝা কঠিন। নদীর নিচে কী হচ্ছে তা বোঝা সম্ভব নয়। তবে নদীর নিচ থেকে ইরেশন হয়ে এগিয়ে আসতে পারে এবং এটি ভাঙনের একটি কারণ হতে পারে। ভাঙন শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করছেন। যে কোনো সময় যে কোনো কিছুর প্রস্তুতি তাদের আছে। যথাযথ ডাম্পিং না করার অভিযোগ সঠিক নয়। রাজবাড়ী পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান জানান, ২০২০ সালে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে শেষ হয়নি। তবে ইতোমধ্যে ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ বলেন, তারা শুক্রবার রাত থেকে প্রায় এক হাজার ৫০টি সিসি ব্লক ও বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। রানিং কাজে কোনো কারণে স্লাইড ধসে গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেরই কাজটি মেরামত করার কথা। তারা সেটা করছে। ভাঙন এলাকায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পাউবোর কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। ভাঙনের কারণ সম্পর্কে প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ বলেন, নদীর চর আগে এক কিলোমিটার দূরে ছিল। চরের ডিরেকশন চেঞ্জ হয়েছে। সেটা হিট করতে পারে। নদীর চারপাশজুড়ে প্রভাবশালীদের বালুর চাতাল। এসব বালুর চাতালের নিচ থেকে পানি বের হয়। তারা বালুর চাতাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু চাতাল-সংশ্নিষ্টরা তাদের কথা শোনেননি। বালুর চাতালের যে ওয়েট, তা নদী রাখতে পারছে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।