• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীরা আজীবন ঘৃণিত থাকবে: রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী মিনু স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বর্ণাঢ্য র‍্যালি চট্টগ্রামে চট্টলা এক্সপ্রেসের বগিতে ‘ভয়াবহ’ আগুন শ্রদ্ধার ফুলে বীর শহীদদের স্মরণ পবা পারিলা ইউনিয়নে ১৫০ জনের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ধৈর্যেরও সীমা আছে, ইরানকে সৌদির সতর্কবার্তা ট্রেনের জন্য প্লাটফর্মজুড়ে হাজারও মানুষের অপেক্ষা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল ঘোষণা করলো মালয়েশিয়া “রাজশাহীতে জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ” শিরোনামে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদে বিবৃতি

বসন্তের আমেজ; মুকুলে ভরে উঠছে রাজশাহীর আমবাগান

Reporter Name / ২০ Time View
Update : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ মাঝ বসন্তে রাজশাহীর আম বাগানগুলো ভরে উঠেছে মুকুলে। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে সবুজ, হলদে মুকুল। গেলো বছরের চেয়ে বাগানগুলোয় এবারে মুকুলের আধিক্য বেশি। অনুকূল আবহাওয়ায় ৮০ ভাগ গাছ থেকে পূর্ণ ফলের প্রত্যাশা চাষিদের। মুকুল টেকাতে বাগানি ও ফলগবেষকরা প্রযুক্তির ব্যবহার ও যত্ন বাড়িয়েছেন বাগানে।

সতেজ ঘনসবুজ আমের বাগানগুলো এখন সোনালি হলুদাভ মুকুলে ভরপুর। ফাল্গুন চৈত্রের নাতিশীতোষ্ণ সময়ে উপযুক্ত তাপমাত্রায় আমের বাগানগুলো ছড়াচ্ছে মুকুলের মৌ-মৌ ঘ্রাণ।

ক্ষীরশাপাত, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালিসহ সবকটি গাছে দোল খাচ্ছে সবুজের আলপনা। গেল দু’বছরের মতো শুরুতেই পড়েনি কোনো প্রাকৃতিক বৈরিতায়। রাত-দিনের তাপমাত্রায় মুকুল আসার উত্তম পরিবেশ পেয়েছে বাগান।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ ফল গবেষক ড. আলীম উদ্দিন বলেন, ‘সব মিলিয়ে এবারের আবহাওয়া আমের পুষ্পায়নের জন্য সব থেকে ভালো এবং উপযোগী। ফলে এ বছর দেখা যাচ্ছে আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে।’

এ অবস্থায় গাছের নতুন ডালের মুকুল কুঁড়িতে স্বপ্ন বুনছেন বাগানিরা। বাগানে ৮৫ শতাংশ গাছে এসেছে মুকুল; বাড়ছে এর হার। উন্নত মুকুলের অধিকাংশই টিকিয়ে রাখতে সেচ, পোকা দমন ও বাগান পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত তারা।

বাগান কর্মীরা জানান, তারা পোকা দমন করার চেষ্টা করছেন, যেন আমে পোকা না লাগে। গাছের নিচে ঘাস থাকলে পোকা হতে পারে তাই বাগান পরিষ্কারে ব্যস্ত কর্মীরা।

আমের সেকেলে চাষের পরিবর্তন এসেছে। উন্নত ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তি ও বাণিজ্যিক বাগানে যত্ন বাড়িয়েছেন মালিকরা। ভেঙে ফেলা হচ্ছে অনুন্নত মুকুল, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাগানে নালা কেটে রাখা হচ্ছে পানি। সেচের সঙ্গে হপার, ছত্রাক ও ফ্রুট-ফ্লাই দমনে গাছের কাণ্ডেও করা হচ্ছে স্প্রে।

বাগানিদের গাছে খাবারের ধরন, কীটনাশক স্প্রে, সেচ পদ্ধতিসহ উদ্ভাবিত নানা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে ফল গবেষণা কেন্দ্র। মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলছেন, শুধু ফলন মৌসুম নয়, বছর জুড়েই এই পরিচর্যা হচ্ছে ব্যক্তি ও বাণিজ্যিক বাগানে।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাছের মুকুল আসে যখন, মুকুল রক্ষা করতে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করার প্রযুক্তি রয়েছে। আমকে ভালোভাবে উৎপাদনের জন্য এখানে পানি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি রয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে আমের ফলন বৃদ্ধি পায়।’

ফলগবেষণা কেন্দ্র ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণের তথ্যমতে, জেলায় ১৯ হাজার ১৮৮ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। যেখানে উৎপাদন হবে অন্তত ২ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিকটন আম।

গেল বছর আমের জাতভেদে মুকুল আসার পার্থক্য ছিলো। এ বছর মুকুলে ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। যত্নের সবটা শেষে ভাগশেষটা মোটা দেখতে চান বাগানিরা। তাই এখন শুধুই প্রার্থনা প্রাকৃতিক সহিষ্ণুতার।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।