যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নজিরবিহীন যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যসহ বহু হতাহতের প্রতিশোধ নিচ্ছে ইরান। হামলা-পাল্টা হামলায় কাঁপছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।
তেহরানের হামলায় রীতিমতো নাস্তানাবুদ ইসরাইল। সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে তেল আবিবে। এতে হতাহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ভয়ে মাটির নিচে থাকা রেল স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছেন শতশত ইসরাইলি।
ইরান থেকে চালানো মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় লক্ষবস্তু করা হচ্ছ মার্কিন ঘাঁটি ও গোলাবারুদের গুদামে। এরইমধ্যে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান, সৌদি আরব এবং ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ১৪টি মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইরাকের এরবিল বিমানবন্দর, বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও আঘাত হেনেছে ইরানের হামলা। এতে বেশ কয়েকজন হতাহতেরও খবর পাওয়া গেছে।
এরইমধ্যে ভাণ্ডারে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইআরজিসি। এমনকি খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দেয়াসহ দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও কঠোর জবাব দেয়ার অঙ্গিকার করেছে তেহরান।
আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ইব্রাহিম জাব্বারি বলেন, ‘ট্রাম্পের জানা উচিত যে আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সবচেয়ে উন্নত অস্ত্রে সজ্জিত। মজুদে থাকা পুরনো ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আমরা হামলার পাল্টা জবাব দেয়া শুরু করেছি। যুদ্ধ চলতে থাকলে আমরা আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করব। আমরা এখনও যা প্রকাশ করিনি, তাও প্রকাশ করবো।’
এদিকে নতুন করে ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের ৩০টিরও বেশি স্থানে হামলার দাবি ইসরাইলি বিমান বাহিনীর। লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ইরানে বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, সামরিক সদর দপ্তর এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখার হুমকিও দিয়েছে ইসরাইল। একযোগে হামলা চালাচ্ছেন মার্কিন সেনারাও। এমনকি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখে দেশটির বর্তমান শাসনতন্ত্র পতনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক থেকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। কোনো উস্কানি ছাড়াই যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ায় নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত। আর বৈঠকেও ইরানে হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের।






















