• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি ২২ বছর পর রাজশাহীতে যাচ্ছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা নির্বাচনি প্রচারণায় আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন ১২ তারিখের নির্বাচন জাতির টার্নিং পয়েন্ট : শফিকুর রহমান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন-সালাহউদ্দিন আহমদ ‘ব্যর্থতার দায় নিয়ে’ ডাকসু নেতা সর্ব মিত্রের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বিমানের টিকিট না পাওয়ায় রাজশাহীতে তারেক রহমানের সফর পেছাল ক্ষমতায় এলে বিএনপি দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে: তারেক রহমান রাজশাহীতে ড্রেন থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ, যা বললেন বিসিবি পরিচালকরা

‘ব্যর্থতার দায় নিয়ে’ ডাকসু নেতা সর্ব মিত্রের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত

Reporter Name / ৩৪ Time View
Update : সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ ‘প্রশাসনের অসহযোগিতা ও ব্যর্থতার দায়’ মাথায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সর্ব মিত্র চাকমা। আজ (সোমবার, ২৬ জানুয়ারি) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এর আগে, গতকাল (রোববার, ২৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও। ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় প্রায় ৩০ জন কিশোর-তরুণ সারিবদ্ধভাবে কান ধরে উঠবস করছেন। তাদের সামনে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন ডাকসু সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। এসময় ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনকেও সেখানে উপস্থিত দেখা যায়। ঘটনাটি গত ৬ জানুয়ারির বলে জানা গেছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সর্ব মিত্র চাকমা ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের ১৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় মাঠে অনুশীলনে যাওয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। তিনি লেখেন, এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও মাঠসংলগ্ন দেয়াল সংস্কার বা নিরাপত্তা জোরদারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজেট সংকটের কথা জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সর্ব মিত্র লেখেন, প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। বহিরাগতরা দেয়াল টপকে মাঠে প্রবেশ করছে এবং নিষেধ করা হলে স্টাফদের ওপর ঢিল ছুড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।

তবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়ে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। সোমবারের পদত্যাগপত্রে সর্ব মিত্র চাকমা লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, মোবাইল, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে বারবার প্রশাসনকে অবগত করা হলেও কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র এখনো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি এবং বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে সর্ব মিত্র চাকমা লেখেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি বহিরাগতদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হন। তবে এ ধরনের শাস্তি দেয়া তার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না বলেও স্বীকার করেন তিনি।

সবশেষে তিনি জানান, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তটি তার ব্যক্তিগত। কারও প্রতি ক্ষোভ বা অভিমান থেকে নয়। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে তাকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন, প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে তিনি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। সেই ব্যর্থতার দায় নিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।