• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

তফসিল ঘোষণার পর থাকবে না ব্যানার-ফেস্টু, করা যাবে না মিছিল-মিটিং

Reporter Name / ৫৫ Time View
Update : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ তফসিলের পর থেকেই বলবত হবে আচরণবিধিসহ নির্বাচনি আইন। থাকবে না মোড়ে মোড়ে বিলবোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুন। আনুষ্ঠানিক প্রচারণার নির্ধারিত সময়ের আগে করা যাবে না মিছিল-মিটিংও। নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে শুরু থেকেই আইন প্রয়োগের দৃষ্টান্ত দেখাতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। একইসঙ্গে তারা বলছেন, অতীতের কালিমা মুছে নিরপেক্ষ ভূমিকা রেখে প্রশাসনের জন্য বড় সুযোগ ঘুরে দাঁড়ানোর।

ঢাউস আকারের এই বিলবোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুন কিংবা প্ল্যাকার্ড- আসন্ন নির্বাচন ঘিরে যে চেহারা তৈরি হয়েছে অলি-গলি আর সড়কের মোড়ে মোড়ে, সেখানে একটা বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই।

কারণ এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই নির্বাচনি শামিয়ানার নিচে পড়বে পুরো দেশ, বলবত হয়ে যাবে আচরণবিধিসহ নির্বাচনি সকল আইন। নির্বাচন কমিশনের অধীনে এসে পড়বে পুরো প্রশাসন, তফসিলের গেজেটের সঙ্গে সঙ্গে গেজেট হবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ, মাঠ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের নাম।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আনুষ্ঠানিক এই নির্বাচন যাত্রার উদ্দেশ্য সবার জন্য একটা সমতল মাঠ তৈরি করা।

নির্বাচন বিশ্লেষক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘এ যে হাজার হাজার পোস্টার, রঙিন পোস্টারও আছে এগুলো সব সরিয়ে ফেলবে। অর্থাৎ প্রত্যেকটা আসন একবারে ক্লিন হয়ে যাবে কোনো প্রচারণা সামগ্রী থাকবে না। ওইটা দিয়ে একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে। তারপর প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী, কোনো দল কোনো ধরনের প্রচারণা করতে পারবে না। অর্থাৎ ক্যাম্পেইনের মত করতে পারবে না। তারা হয়ত বাড়ি বাড়ি যেতে পারবে। তারা ঘরোয়া বৈঠক, উঠান বৈঠক করতে পারবে। কিন্তু কোনো রকম প্রচারণা সামগ্রী দিয়ে, ব্যানার দিয়ে, লিফটলেট দিয়ে, ফেস্টুন দিয়ে কোনোরকম প্রচারণা করতে পারবে না।’

নির্বাচনি আইনে প্রচার-প্রচারণা কিংবা ভোট গ্রহণের জন্য বেঁধে দেয়া নীতিমালা না মানাকে অপরাধ হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছে। যার শাস্তি হিসেবে প্রার্থিতা বাতিলসহ জরিমানা কিংবা কারাদণ্ডও রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রতিটি আসনে যেভাবে সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী ভোটের প্রতিযোগিতায় ব্যানার-ফেস্টুনের প্রতিযোগিতায়ও রয়েছে, সেখানে নির্বাচন কমিশন যে পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রার্থিতা ঘোষণা না করছে, সে পর্যন্ত এসব আইন বাস্তবায়নের উপায় কী?

নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন টুলী বলেন, ‘প্রার্থী না হলে তো আর কাউকে করা যাচ্ছে না। ইন জেনারেল সবাইকে বলা যায় যে, আপনারা এগুলো সরান। যদি নিজ দায়িত্বে না করে তখন একটা নোট রাখা দরকার যে, পরে যদি উনি প্রার্থী হন তখন বলা যায় যে আপনি এ নির্দেশটা মানেন নি কেন। সেটা তার জন্য খুব একটা ভালো দিক হবে না। ভোটাররা কুঝবে যে ইনি যদি প্রার্থী হন তাহলে তিনি তো আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না। নির্বাচনের কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে মানে না। তখন তারা ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে তো চিন্তা করবে।’

তফসিল ঘোষণার পরপরই সরকার ঘোষিত ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী মোতায়েনের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্বাচন কমিশনে উপস্থাপন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারপরই জানা যাবে, নির্বাচনি টাইমলাইনে কখন, কোথায়, কীভাবে মোতায়েন হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতের সকল বদনাম ঘুচিয়ে প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘুরে দাঁড়াবার মোক্ষম সময় আসন্ন এ নির্বাচন।

নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন টুলী বলেন, ‘অতীতে আমাদের খুব তিক্ত অভিজ্ঞতা। আমরা প্রশাসনকে দোষারোপ করি, আর প্রশাসই নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে, অথবা নষ্ট করেছে। ম্যানুপুলেশন যেটাকে বলা হয়। প্রশাসনেরও ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এটা। প্রশাসন যদি এ চ্যালেঞ্জ নিয়ে থাকে যে, আমারদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা না হয় আমরা সঠিক নির্বাচন করতে পারি।’

তফসিল ঘোষণার পর থেকে কমিশন ঘোষিত প্রচার প্রচারণার বেঁধে দেয়া সময়ের আগ পর্যন্ত শহর-নগরের মানুষ রেহাই পাবে সভা সমাবেশের ভোগান্তি থেকেই। এরই মধ্যে বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশে বিধিনিষেধ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।