• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

দুর্নীতি দমনে বিএনপির ৭ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করলেন তারেক রহমান

Reporter Name / ৫৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ দুর্নীতি বাংলাদেশের অগ্রগতি ও জনগণের দৈনন্দিন জীবনকে পঙ্গু করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেতে সংগ্রাম করা একজন গ্র্যাজুয়েট, সাধারণ সরকারি সেবা পেতে মাসের পর মাস ভোগান্তিতে থাকা কৃষক কিংবা হাসপাতালে সেবাবঞ্চনার শিকার একটি পরিবার—এসব উদাহরণই প্রমাণ করে, দুর্নীতি কীভাবে মানুষের জীবনকে দমবন্ধ করে ফেলছে।’

আজ (মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমনে বিএনপির সাত দফা পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।

তারেক রহমান লিখেছেন, খাবারের দাম কেন বাড়ে, স্কুলে মানসম্মত শিক্ষা পাওয়া কঠিন কেন, রাস্তায় নিরাপত্তাহীনতা কেন—সব কিছুর মূলে রয়েছে দুর্নীতি। তিনি আরও বলেন, ‘বহু বছর ধরেই বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলছে; তবে বিএনপির শাসনামলেই এ লড়াই সবচেয়ে বেশি গতি পেয়েছিল।’

তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, অর্থনীতিকে মুক্ত করা—এসব উদ্যোগে অনিয়ম কমেছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় নতুন ক্রয় নীতিমালা, কঠোর আর্থিক আইন, শক্তিশালী অডিট ব্যবস্থা ও নজরদারি কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন, যা দেশের জবাবদিহিতা ব্যবস্থায় বড় অগ্রগতি হিসেবে বিশ্বব্যাংক-এডিবি প্রশংসা করেছিল।

বিএনপির দাবি, দুর্নীতি কমাতে অতীতে যেসব পদক্ষেপে সাফল্য এসেছিল

১. শক্তিশালী সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা—বাজেট নিয়ন্ত্রণ, অডিট ও মানি লন্ডারিংবিরোধী আইন।

২. স্বচ্ছ সরকারি ক্রয়—প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, নীতিমালা অনুসরণ।

৩. উন্মুক্ত বাজারনীতি—টেলিকম, মিডিয়া, বিমান পরিবহন খাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি।

৪. প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ—ক্ষমতার অপব্যবহার কমিয়ে সেবায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি।

আগামী দিনে দুর্নীতি দমনে বিএনপির সাত দফা পরিকল্পনা

১. আদালত, দুদক, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি সেবাখাতসহ সব প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

২. পুরোপুরি স্বচ্ছতার ব্যবস্থা—উন্মুক্ত দরপত্র, সম্পদ বিবরণী, রিয়েল-টাইম অডিট, শক্তিশালী তথ্য অধিকার আইন।

৩. বিচার ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সংস্কার—পেশাদার পুলিশিং ও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি।

৪. ই-গভর্ন্যান্স—লাইসেন্স, জমি, পেমেন্টসহ অধিকাংশ সেবা অনলাইনে এনে ঘুষ কমানো।

৫. হুইসলব্লোয়ার সুরক্ষা—অনিয়ম ফাঁসকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৬. নৈতিক শিক্ষা—স্কুল-কলেজে সততার চর্চাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা।

৭. আর্থিক নজরদারি জোরদার—ডিজিটাল ব্যয় ট্র্যাকিং, স্বাধীন অডিট ও সংসদের তদারকি বৃদ্ধি।

তারেক রহমান বলেন, ‘বহু বছরের অব্যবস্থাপনার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। সৎ নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও জনগণের সমর্থন একসঙ্গে এলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব। জনগণ দায়িত্ব দিলে বিএনপি আবারও সেই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।’


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।