• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের অধ্যাদেশ জারি

Reporter Name / ৫৪ Time View
Update : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর রাতে মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়েছে। দুপুরে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভোট অধ্যাদেশ আকারে অনুমোদন দেয়া হয়। পরে বিকেলে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানান, আজ বা আগামীকালের মধ্যে এর গেজেট নোটিফিকেশন হবে। রাতেই সেই অধ্যাদেশ জারি করলো সরকার।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের অধ্যাদেশ নিয়ে আসিফ নজরুল জানান, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে জুলাই সনদে বর্ণিত সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবের বিষয়ে দেশের মানুষের মতামত বা সম্মতি জানার জন্য গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণীত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যে গণভোটটি হবে সে গণভোটটা কীভাবে গ্রহণ করা হবে সে প্রক্রিয়াটা গণভোট অধ্যাদেশে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।’

মঙ্গলবার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভোট অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

কী আছে গণভোট অধ্যাদেশে:

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, গণভোটে নিম্নরূপ একটি প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে- আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?; (হ্যাঁ/না):

(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

(গ) সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে- সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে।

আইন উপদেষ্টা জানান, এ আইন প্রণয়নে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা পাওয়া গেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল, কয়েকজন উপদেষ্টা ও আইন মন্ত্রণালয়ও প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।

আসিফ নজরুল জানান, গণভোটে থাকবে মাত্র একটি প্রশ্ন—ভোটাররা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার-সংক্রান্ত চারটি প্রস্তাবের প্রতি সম্মতি জানান কি না। ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ দুটি ঘর থাকবে; সম্মত হলে ‘হ্যাঁ’, না হলে ‘না’-তে সিল দিতে হবে। চারটি প্রস্তাব হলো—

• জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন;

• আগামী জাতীয় সংসদকে দুই কক্ষবিশিষ্ট করা এবং প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠন;

• জুলাই সনদের ৩০টি সংস্কার—নারীর প্রতিনিধিত্ব, বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, কয়েকটি সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ইত্যাদি—এসব বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর বাধ্যবাধকতা;

• জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী প্রতিটি দলই ৩০টি প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে; এনসিপিও একই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। এজন্যই বলা হচ্ছে, এ ৩০টি প্রস্তাবে ‘ঐকমত্য’ হয়েছে। অধ্যাদেশের অ্যাপেন্ডিক্সে এ ৩০টি প্রস্তাব সংযুক্ত থাকবে, যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ জানতে পারে গণভোটে কোন বিষয়ে মতামত চাওয়া হচ্ছে।

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেসব কেন্দ্রে হবে, সেই কেন্দ্রগুলোতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে; একই ভোটার তালিকাই ব্যবহার করা হবে।

গণভোটের ব্যালট সংসদ নির্বাচনের ব্যালট থেকে আলাদা রঙের হবে, যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না হয়। নির্বাচনের জন্য নিয়োজিত রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তারাই গণভোটে দায়িত্ব পালন করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।