• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

পদত্যাগ করল রাজশাহীর এনসিপি নেত্রী

Reporter Name / ১২০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ দল থেকে পদত্যাগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহী জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক শামীমা সুলতানা মায়া।

আজ মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

শামীমা সুলতানা মায়া জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি রাজশাহীতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর থেকে দলের দায়িত্ব পালনে সততা ও জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন সমালোচনা, মিথ্যা অভিযোগ, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং নানামুখী চাপে তার পক্ষে আর সৎভাবে দলের কার্যক্রমে যুক্ত থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে আমার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আগেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। মানসিকভাবে তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনায় প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে না পারায় পদত্যাগকেই তিনি শ্রেয় মনে করেছেন।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এনসিপি ভবিষ্যতে গণমানুষের আস্থা অর্জনে এবং স্বচ্ছ রাজনীতি চর্চায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। এনসিপির ওপর সাধারণ জনগণের অনেক আশা-আকাঙ্খা জড়িয়ে আছে। আমি চাই, এনসিপি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার জায়গায় থাকুক।

পদত্যাগপত্রে শামীমা সুলতানা মায়া উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এনসিপির রাজশাহী জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। জুলাই অভ্যুত্থানের একজন যোদ্ধা হয়ে ও এনসিপির দায়িত্ব পালনকালে আমি সর্বদা চেষ্টা করেছি নীতি, সততা এবং জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে। আমার বিশ্বাস রাজনীতি হলো জনআস্থা অর্জনের সংগ্রাম এবং মানুষের মৌলিক অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যেসব ঘটনা ঘটছে এবং যেভাবে সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আমার ব্যক্তিগত আদর্শ ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে। আমাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা, মিথ্যা অভিযোগ, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং নানামুখী কর্মকাণ্ডের কারণে আমি উপলব্ধি করেছি এই পদে থেকে আমার নীতিগত অবস্থান অটুট রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না।

আমি কাউকে আঘাত করতে চাই না, কিংবা সরাসরি কোনো অভিযোগ তুলতে চাই না। তবে সত্য হলো আমি আমার বিবেক, সততা এবং নীতিকে কোনোভাবেই বিসর্জন দিতে চাই না। রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। তবে বর্তমান অবস্থায় যেসব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে করে সেই বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আগে আমি নিজেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাই।

অতএব, আমি এনসিপির রাজশাহী জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আমি মনে করি, এটি শুধু আমার জন্যই নয়, দলের জন্যও একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। কারণ একজন মানুষ তার বিবেকের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থায় থাকলে সেই পরিস্থিতিতে সে সংগঠনকে সঠিকভাবে উপকৃত করতে পারে না।

আমি দৃঢ়ভাবে অঙ্গিকার করছি যে, ভবিষ্যতেও আমি সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক কাজ চালিয়ে যাবো। একইসঙ্গে দলের প্রতি আমার শুভকামনা থাকবে। আমি আশা করি, এনসিপি গণমানুষের আস্থা অর্জনে এবং স্বচ্ছ রাজনীতি চর্চায় আরও দৃঢ় ভূমিকা রাখবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।