• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

এটা আমার নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর বিজয়-জিএস ফরহাদ

Reporter Name / ১১৯ Time View
Update : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী এসএম ফরহাদ। তবে নিজের জয়কে তিনি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর সম্মিলিত বিজয় হিসেবে দেখছেন।

আজ বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ফলাফলের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ফরহাদ বলেন, আমি ফরহাদ জিএস হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। এটি ব্যক্তি ফরহাদের বা ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির কোনো অর্জন নয়। এটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভোটে প্রদত্ত একটি বিশাল আমানত। তাই আমি মনে করি, এটি শিক্ষার্থীদের বিজয়।

তিনি আরও বলেন, আমার কাছে এই বিজয় কোনো ব্যক্তিগত আনন্দের বিষয় নয়। বরং এটি আমার জন্য একটি পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও বিশ্বাস রক্ষার দায়িত্ব এখন আমাদের ওপর বর্তেছে। আমি চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী আমার উপদেষ্টা হোক। আমার পথচলায় যদি কখনো ভুল করি বা সঠিক দিক থেকে বিচ্যুত হই, শিক্ষার্থীরা যেন আমাকে সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করেন, সমালোচনা করেন এবং পথ দেখান।

সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ শিক্ষার্থীদের প্রতি তার দায়বদ্ধতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এখন আমাদের আনন্দ করার সময় নয়। এটি আমাদের পরীক্ষার সময়। শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের ভোট দিয়েছেন, সেটি পূরণ করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের জন্য কাজ করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, আমরা কোনো বিজয় মিছিল করব না, কোনো আনুষ্ঠানিক বিজয় উদযাপন করব না। এ জয় কেবল আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায়ের বিষয়। শিক্ষার্থীদের দেওয়া এই আমানত সঠিকভাবে রক্ষা করতে পারলেই আমাদের বিজয় অর্থবহ হবে।

এসএম ফরহাদ বলেন, এই যে বিশাল আমানত শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর অর্পণ করেছেন, এর খেয়ানত যেন না হয়। কোনো শিক্ষার্থীর অধিকার যেন নষ্ট না হয়, কোনো সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়—সেই প্রতিশ্রুতিই আজ আমি দিচ্ছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন এই দায়িত্ব পালনে আমাদের তৌফিক দেন।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, কাল কেয়ামতের ময়দানে আমাদের এই দায়িত্ব নিয়ে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তাই এ দায়িত্ব শুধু রাজনৈতিক নয়, ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্বও বটে।

নবনির্বাচিত জিএস শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা একা কিছু করতে পারব না। আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও প্রতিটি পদক্ষেপ যেন শিক্ষার্থীদের স্বার্থরক্ষায় কাজে আসে, সেজন্য আমি শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও পরামর্শ চাই। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ সারা দেশের জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ডাকসুর নির্বাচন নিয়ে যারা উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং আমাদের বিজয়ে আনন্দিত হয়েছেন, তাদের প্রতিও বিনীত অনুরোধ থাকবে—আমাদের এ বিজয় যেন শুধুই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া প্রকাশেই সীমাবদ্ধ থাকে। মিছিল-মিটিং নয়, বরং কর্মের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করব। আমাদের কাজই হোক প্রকৃত বিজয়ের বহিঃপ্রকাশ।

ডাকসু নির্বাচনে দীর্ঘদিন পর অংশ নিয়ে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্রার্থীরা ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টি পদে জয়লাভ করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।