• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে হামলায় গণঅধিকার জড়িত নয়, দায় চাপানো ‘বড় স্পর্ধা

Reporter Name / ১০৮ Time View
Update : শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদকে জড়িত করার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’, ‘অসত্য’ এবং ‘বড় ধরনের স্পর্ধা’ বলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন।

তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদ শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী, তাই এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং এই ঘটনার মাধ্যমে সরকার এবং জাতীয় পার্টি আন্দোলনের গতিপথ ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।একইসঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নুরকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গণঅধিকার পরিষদকে দায়ী করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তার বড় ধরনের স্পর্ধা। আমরা স্পষ্ট করে জানাতে চাই- জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসংযোগের সঙ্গে আমাদের সংগঠনের ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই। শাহবাগে আমরা শান্তিপূর্ণ সংহতি সমাবেশ করেছি। সেখানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। এই কর্মসূচি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর হঠাৎ কারা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে গিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, আমরা জানি না। তবে এটুকু নিশ্চিত, গণঅধিকার পরিষদ বা সংহতি সমাবেশে অংশ নেওয়া কোনো দলই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের সামনেই জাতীয় পার্টির নেতারা মিছিল করেছেন। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছুই করেনি। আমরা দেখেছি পুলিশ ভাঙচুরের সময় কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এটি সরকারের একাংশ এবং প্রশাসনের একাংশের নীরব মদদ ছাড়া সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ যেমন তেজগাঁওয়ে বড় মিছিল করেছে অথচ তাদের প্রতিহত করা হয়নি, তেমনি জাতীয় পার্টিকেও মাঠে নামতে সহায়তা করা হচ্ছে। এর মানে স্পষ্ট- সরকারের একটি মহল তাদেরকে প্রটেকশন দিচ্ছে।

রাশেদ খাঁন বলেন, এটি নতুন কোনো আন্দোলন নয়। আমরা বরাবরই জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছি। প্রায় সাত-আট মাস আগে প্রধান উপদেষ্টার কাছেও আমরা লিখিতভাবে এই দাবি জানিয়েছি। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেছি। আওয়ামী লীগের মতো একই ধরনের অপরাধে জড়িত জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দল দেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে না। তাই আওয়ামী লীগের কার্যক্রম যেমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করতে হবে।

তিনি জিএম কাদেরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, জিএম কাদের নিজেই প্রকাশ্যে বলেছেন, ভারতের অনুমতি ছাড়া তিনি আলোচনা সংক্রান্ত কিছু বলতে পারবেন না। এর মানে তিনি ভারতের অনুগত দাসে পরিণত হয়েছেন। বাংলাদেশে কে বিরোধী দল হবে, কে সরকার হবে- এই সিদ্ধান্ত এদেশের জনগণ নেবে। কোনো প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা ভারতের মতো বহিরাগত শক্তি এতে নাক গলাতে পারবে না। তবুও যদি জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল বানানোর ষড়যন্ত্র হয়, তবে সেটা জনগণ কখনো মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, শামীম হায়দার পাটোয়ারী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বোঝা যায় তারা ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে গেছে। তাই আমি সরকারের কাছে স্পষ্ট দাবি জানাচ্ছি- আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং জিএম কাদেরকে গ্রেপ্তার করতে হবে। রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনুদের মতো অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাহলে জিএম কাদের এখনো কেন গ্রেপ্তার হচ্ছেন না? সরকার এ ব্যাপারে দ্বিমুখী নীতি নিলে জনগণ কখনো তা মেনে নেবে না।

সবশেষে রাশেদ খাঁন বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোনো স্থান নেই। ফ্যাসিস্ট ও তাদের দর্শকদের বিরুদ্ধে লড়াই যতদিন না এই শক্তি বিনাশ হয়, ততদিন গণঅধিকার পরিষদ রাজপথে থাকবে। জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে কোনোভাবেই অংশ নিতে পারবে না। তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমও চলবে না। জনগণের স্বার্থেই এই অবস্থান আমরা ধরে রেখেছি এবং রাখব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।