• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

বিএনপির জনসভা মঞ্চে পলকের শ্যালিকা, সমালোচনার ঝড়

Reporter Name / ৪২২ Time View
Update : শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪

সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালিকা ও দীপ মেডিক্যালের মালিক ডা. ফারজানা রহমান দৃষ্টির দেখা মিললো বিএনপির এক জনসভা মঞ্চে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বিএনপির জনসভায়। এ সময় দৃষ্টিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পেছনের সারিতে বসে থাকতে দেখা গেছে। এ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। ফেসবুকজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়

জানা গেছে, ডা. ফারজানা রহমান দৃষ্টি সিংড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর ভাতিজি ও পলকের স্ত্রী আরিফা জেসমিনের চাচাতো বোন।

অনুষ্ঠানে থাকা কয়েকজন বিএনপির নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফারজানা রহমান দৃষ্টি আওয়ামী লীগের শাসনামলে পলকের দাপটে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ভাড়া নিয়ে ক্লিনিক পরিচালনা করেছেন। এ ছাড়া তিনি পলকের নির্বাচনের সময় প্রকাশ্যে নৌকার ভোট করেছেন। ‘জয় বাংলা’ অ্যাওয়ার্ডও নিয়েছেন পলকের প্রভাবে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, ‘সাধারণ কর্মীরা গত ১৫ বছর নির্যাতিত হলেও এই সুবিধাবাদী লোকজন সব সময় সুবিধায় থাকে। ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলকের চাচাশ্বশুর হওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন। তাই এখন আওয়ামী লীগের সুবিধাপ্রাপ্ত  ফারজানাকে বিএনপির বানানোর চেষ্টা করছেন আনোয়ারুল ইসলাম আনু।’

এ ব্যাপারে ডা. ফারজানা রহমান দৃষ্টি বলেন, ‘আমি একজন চিকিৎসক। চিকিৎসার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেয়েছি।’ সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য ‘জয় বাংলা’ অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন বলে দাবি তার।

বিষয়টি নিয়ে বিএনপির এক কর্মী তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘সিংড়া বিএনপির জনসভার মঞ্চে জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালিকা, তাহলে এরাই কি আগামী দিনের বিএনপি?’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিএনপির নেতাদের অভিযোগের বিষয়ে ফারজানা রহমান দৃষ্টি জানান, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না। শুক্রবার বিএনপির জনসভার জন্য বিকালে তিনি কোনও যানবাহন না পাওয়ায় সিংড়া বাসস্ট্যান্ডের ক্লিনিক থেকে হেঁটে হাসপাতালের পাশে তার চেম্বারে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার পরিচিত কয়েকজন তাকে মঞ্চে ডাকলে কিছু সময় সেখানে ছিলেন।

সিংড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেন, ‘তাকে (দৃষ্টি) কে মঞ্চে তুলেছে, সেটা আমি জানি না।’

প্রসঙ্গত, ফারজানা রহমান দৃষ্টি বিগত দিনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রচারণায় পলকের স্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে ইয়ং বাংলার অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন। এ ছাড়াও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসের অ্যাওয়ার্ড ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তাকে জয়িতা অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন।

শুক্রবার বিকালে সিংড়া উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিংড়ার সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক কাজী গোলাম মোর্শেদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।