• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

জেলা আ.লীগ নেতারা উপজেলা নির্বাচনে নৌকা না থাকায় ‘বেজার’

Reporter Name / ১৮৪ Time View
Update : বুধবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৪
প্রার্থী চূড়ান্তে আওয়ামী লীগের তারিখ নির্ধারণ
প্রার্থী চূড়ান্তে আওয়ামী লীগের তারিখ নির্ধারণ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশজুড়ে বইছে উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে এবার দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ফলে ভোটের ময়দানে থাকছে না দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’।

সোমবার (২২ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের জরুরি সভায় স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আশা ও আশঙ্কা। নির্বাচন উন্মুক্ত করে দেওয়ায় মনোনয়ন বাণিজ্যের পথ বন্ধ হচ্ছে যার কারণে তৃণমূলের কিছু প্রভাবশালী নেতারা বিষয়টি মানতে পারছে না।

যদিও নেতাকর্মীদের অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে দলীয় নেতাদের প্রার্থী হওয়ার অবাধ সুযোগ তৃণমূলে দ্বন্দ্ব-সংঘাত তীব্র করে তুলবে বলে কারও কারও আশঙ্কা।

স্থানীয় সরকারের মধ্যে ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান আছে। সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত রেখেছিল আওয়ামী লীগ। সেই সুযোগে দলের ৫৯ জন নেতা স্বতন্ত্র নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ‘তৃণমূলে যে স্বতন্ত্র-নৌকার প্রার্থীর দ্বন্দ্ব, তা কমে আসবে। দলের ভেতরে কোন্দল থাকবে না। ভোটে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে মনোনয়ন ঘিরে যে অনিয়ম, তা থাকবে না।’

তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন তৃণমূলের অনেক নেতা। সারা দেশের জেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতাই কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না। তাদের মতে, মনোনয়ন বাণিজ্যের সঙ্গে তৃণমূলের ভূমিকা খুবই নগণ্য। মূলত শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা থেকেই দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; কিন্তু এতে দলের কোন্দল ও বিভেদ তো কমবেই না বরং আরও বাড়বে। সেইসঙ্গে নির্বাচনে হেরে গেলে পরাজিত প্রার্থী কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুললে তা দল ও সরকারের জন্য বিব্রতকর হবে।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান কালবেলাকে বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলে দলে অনৈক্য আরও বাড়বে। স্বতন্ত্র ও নৌকার প্রার্থীর মধ্যে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের বেড়াজালে যেভাবে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হলো, উপজেলা নির্বাচন কিন্তু সেভাবে পাড়ি দেওয়া যাবে না।

তৃণমূলের নেতারা জানান, স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন শুরুর পর থেকে দলীয় মনোনয়ন পেলেই বিজয় নিশ্চিত—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনে। ফলে অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী নির্বাচনী মাঠ গোছানোর চেয়ে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতেই বেশি মরিয়া থাকে। আর তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একটি বিশেষ চক্র এর সুযোগ নিচ্ছে। মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার নামে তারা আর্থিক ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। এদের প্রভাবে অনেক ক্ষেত্রেই দলের যোগ্য প্রার্থীরা মনোনয়নবঞ্চিত হন।

নেতারা বলেন, তৃণমূলের মতামতের নামে গোপনে লেনদেন, স্বজনপ্রীতি, বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নেওয়ায় অনেক যোগ্য প্রার্থীর নামই সুপারিশ করে না কেন্দ্রের কাছে। ফলে যোগ্যতা থাকলেও দলীয় মনোনয়ন পাওয়া হয় না অনেকের। এ মনোনয়ন বাণিজ্যের পাশাপাশি স্থানীয় বা কেন্দ্রের প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্যদের ভূমিকার কারণেও ত্যাগী নেতাদের অনেকে দলের মনোনয়নবঞ্চিত হন। টানা ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় তৃণমূলে তৈরি হয়েছে বিভেদ, যা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আরও বেশি স্পষ্ট হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।