• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

নয়াপল্টনে বিএনপির বড় সমাবেশের প্রস্তুতি, বাধা দেবে না পুলিশ

Reporter Name / ১৪৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০২৩

আগামীকাল নয়াপল্টনে বড় সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নয়পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনের ওই সমাবেশে থেকে সরকার পতনের একদফা কর্মসূচি আসতে পারে। তাই ওই সমাবেশ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সামনের সম্ভাব্য আন্দোলন কর্মসূচি ঘিরে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সমাবেশে যেন বাধা না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশের পক্ষ থেকে আগ বাড়িয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যাতেc  পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তবে সমাবেশের নামে কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটাতে না পারে সেজন্য সচেষ্ট থাকতে হবে। কোনোভাবেই সুযোগ সন্ধানীদের অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া যাবে না। যারা নাশকতা করবে তাদের ছাড় দেওয়া যাবে না। যেকোনো পরিস্থিতিতে পুলিশকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশের সবাইকে চেনই অব কমান্ড মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সোমবার বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপকমিশনার (ডিসি) ফারুক হোসেন বলেন, ‘নগরবাসীর নিরাপত্তা দিতে ডিএমপি সব সময় প্রস্তুত। যে কোনো সমাবেশের আগেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বুধবারের সমাবেশের জন্য বিএনপিকে অফিসিয়ালি অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে কমিশনার মহোদয় মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছেন বলে শুনেছি। অনুমতি থাকলে নিশ্চয়ই বিএনপি সমাবেশ করতে পারবে। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। যানচলাচল স্বভাবিক রাখা এবং অফিস-আদালত চালু রাখাসহ নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা নাশকতা করবে তাদের গ্রেফতার করা হবে।’ নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনায় পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ওয়ারেন্টপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব ওয়ারেন্টপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

অতীতে গায়েবি মামলার (ঘটনা না ঘটলেও মামলা) কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এবার যাতে এ ধরনের কোনো মামলা না হয় সে বিষয়ে জেলার এসপি, বিভিন্ন অপরাধ বিভাগের উপ-কমিশনারদের (ডিসি) বিশেষ নজর রাখতে হবে। কেউ মামলা করতে থানায় গেলে কালক্ষেপণের মাধ্যমে তাকে হয়রানি করা যাবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলা নিতে হবে। আবার দ্রুত মামলা নিতে গিয়ে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে। বিএনপির সমাবেশ ও সামনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মেকাবিলার প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে একজন অতিরিক্ত আইজিপি যুগান্তরকে জানান, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের তালিকা পুলিশের হাতে আছে। তালিকা বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক নেতাকর্মীদের নজরদারিতে আনা হয়েছে। তাই ইচ্ছা করলেই কেউ নাশকতা বা বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পারবে না।

জানতে চাইলে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম) অতিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে ডিএমপির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, কেউ বিশৃঙ্খলা করতে পারবে না। নির্বাচনকেন্দ্রিক পুলিশের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, যখন যে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। কেউ যেন চেইন অব কমান্ড ভঙ্গ না করে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। জেলায় কোনো ঘটনা ঘটলে অবশ্যই এসপিকে জানাতে হবে। এসপির নির্দেশনা অনুযায়ী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে রেঞ্জ ডিআইজি এমনকি পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা নিতে হবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় কিছু ঘটলে সংশ্লিষ্ট অপরাধ বিভাগের উপ-কমিশনারকে দায়িত্ব নিতে হবে। বড় ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

পুলিশের পদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতিতে র‌্যাব, সিআইডি, পিবিআই, শিল্প পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, এপিবিএন, নৌ পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে অধিকতর তৎপর হতে বলা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এরই মধ্যে অগ্রিম নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এসবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে সক্রিয় আছে। মাঠ পর্যায়ে যে কোনো ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে পুলিশ সদর দপ্তর প্রস্তুত আছে। জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, বিএনপির সমাবেশ ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য পুলিশ যথেষ্ট তৎপর। মাঠ পর্যায়ে যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে পুলিশ পেশাদারিত্ব ও আইনানুগ দায়িত্ব পালন করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।