• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

নিরপেক্ষ সরকার ইস্যুতে কোনো ছাড় দেবে না বিএনপি

Reporter Name / ১৪৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০২৩

এজেন্ডাবিহীন কোনো সংলাপেই সাড়া দেবে না মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ইস্যুতে কোনো ছাড় দেবে না দলটি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংলাপ নিয়ে নানামুখী আলোচনা হলেও তা আমলেই নিচ্ছে না। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না তারা। সরকারকে বিদায় করেই সংকটের সমাধান করা হবে। তাই কিসের সংলাপ আর কিসের আলোচনা তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই।

তাছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাদের কথার কী দাম আছে। এক নেতা সংলাপের কথা বলছে আরেকজন তা নাকচ করে দিচ্ছে। আসলে সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সরকার নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। সংলাপ ইস্যুতে সামনে আনা সেই কৌশলের অংশ বলেই তারা মনে করেন।

তাদের মতে, আওয়ামী লীগ নেতারা বক্তৃতায় কী বললেন, তা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তারা হঠকারী ও হাস্যকর কথা বলেন। আমাদের কথা পরিষ্কার, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে শুধু নিরপেক্ষ সরকার বিষয়ে। অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনার সুযোগ নেই।

বিএনপির দুজন নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে নিতে শুধু সংলাপ নয়, আরও নানা কৌশলের আশ্রয় নিতে পারে ক্ষমতাসীনরা। নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইস্যুতে ছাড়ের প্রস্তাবও দেওয়া হতে পারে। কিন্তু এবার অতীতের মতো আর ভুল করবে না তারা। রাজপথেই দাবি আদায় করা হবে। আমরা সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছি।

সংলাপ নিয়ে আমির হোসেন আমুর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, আমির হোসেন আমুর বক্তব্য আওয়ামী লীগের কিনা সেটা আমরা জানি না। তাছাড়া এখন তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামেও নেই। সেক্ষেত্রে প্রথম কথা হচ্ছে, তার কথাকে আমরা আওয়ামী লীগের বক্তব্য মনে করব কিনা? দ্বিতীয়ত, ১৪ দল তো সিদ্ধান্ত নেয় না, নেয় আওয়ামী লীগ। এটা আদৌ আওয়ামী লীগের প্রস্তাব কিনা, সেটা না জেনে বিস্তারিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের এজেন্ডা ছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়। অতীতে এজেন্ডাবিহীন সংলাপে তারা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তার কোনোটাই রক্ষা করেনি। ওইসব বৈঠকে আমির হোসেন আমুও ছিলেন। তাই আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রাখার কোনো সুযোগ নেই। সেজন্য আমরা পরিষ্কার বলছি যে, অন্য কোনো বিষয়ের ওপর আলোচনার কোনো সুযোগই নেই। একমাত্র নিরপেক্ষ সরকার কীভাবে হতে পারে, তারা যদি রাজি হয় যে, হ্যাঁ নিরপেক্ষ সরকার করব, সরকার যদি বলে আমরা পদত্যাগ করব, আমরা নিরপেক্ষ সরকারের ব্যাপারে আলোচনা করব কিনা, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই মুহূর্তে দাবি আদায়ে আমরা রাজপথকেই বেছে নিয়েছি। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি চলছে, এটা আরও জোরদার হবে। দাবি আদায়ে আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী। মানুষের যে সাড়া আমরা পাচ্ছি, মানুষ যেভাবে এগিয়ে আসছে, আমরা বিশ্বাস করি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের পদত্যাগে বাধ্য করতে পারব এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হবে।

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না তারা। এক্ষেত্রে এজেন্ডাবিহীন সংলাপে বসাতে তৃতীয় কোনো পক্ষ সমঝোতার চেষ্টা করলেও তাতে সায় দেবে না তারা। কারণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ নিয়ে অতীতে তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৮ সালের কথা সবাই জানে। সেই সময় তারা প্রকাশ্যেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রাখেনি। আওয়ামী লীগ ভয়ংকর বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে। সেই সময় জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসাবে অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে সমঝোতার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তার উপস্থিতিতে দুদলের আলোচনা হয়। সেখানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার পর অল্প সময়ের মধ্যে আরেকটি ভোট করা হবে। তারানকোর উপস্থিতিতে যে প্রতিশ্রুতি আওয়ামী লীগ দিয়েছিল, পরে তা রাখেনি। তাই আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সংকট সমাধান নিয়ে ক্ষমতাসীন দলে নেতা-মন্ত্রীরা ‘এলোমেলো’ বক্তব্য দিচ্ছেন। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বিএনপি হলো একটি সন্ত্রাসী দল, এরা সন্ত্রাস করে এদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় বসার প্রশ্নই ওঠে না। আর মঙ্গলবার আমির হোসেন আমু বললেন, জাতিসংঘের সমঝোতার মাধ্যমে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত আছে। আবার আজকে (বুধবার) শুনলাম ওবায়দুল কাদের (আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) বলেছেন, না এটা সঠিক নয়। সংলাপের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ওদের কথার কী দাম আছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা কী বলছেন সেটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। তা আমলেই নিচ্ছি না। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলনে আছি। এর মধ্যে সরকার সংলাপসহ যেসব কথাবার্তা বলছে তাতে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে সরাতে পারবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।