• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি ২২ বছর পর রাজশাহীতে যাচ্ছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা নির্বাচনি প্রচারণায় আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন

রোজা থাকা অবস্থায় যেসব কাজ মাকরুহ

Reporter Name / ১৬৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০২৩

মাকরুহ অর্থ অপছন্দনীয়। যেসব কাজ করলে গুনাহ হয় না; তবে ইসলামে অপছন্দ করা হয়েছে সেগুলোকে মাকরুহ বলে। রোজার ক্ষেত্রেও অনেক কাজ এমন রয়েছে, যেগুলো করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে এ ধরনের কাজ করা ঠিক নয়
১. বিনা প্রয়োজনে কোনো কিছুর স্বাদ গ্রহণ করা বা চিবানো। তবে কোনো নারীর স্বামী কঠোর স্বভাবের হলে স্ত্রীর জন্য তরকারির স্বাদ পরীক্ষা করা মাকরুহ নয়।
২. এমনভাবে কুলি করা কিংবা নাকে পানি পৌঁছানো যে পানি ভেতরে প্রবেশের আশংকা হয়। হজরত লাকিত ইবনে সাবিরা (রা.) থেকে বর্ণিত— রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন— ‘নাকে পানি দেওয়ার সময় ভালোভাবে নাকে পানি দাও। তবে রোজাদার হলে নয়। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৭৬৬; সুনানে আবু দাউদ ১/৩২২; মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, হাদিস: ৯৮৪৪)
৩. ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে অনেক থুতু জমা করে গিলে ফেলা।
৪. কয়লা, মাজন বা টুথপেস্ট দ্বারা দাঁত মাজা।
৫. বিনা প্রয়োজনে শিশুর খাদ্য চিবিয়ে দেওয়া। রোজাদার নারী তার বাচ্চার জন্য খাদ্য চিবানোকে ইবরাহীম নাখায়ী (রহ.) দোষের বিষয় মনে করতেন না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৪/২০৭)
৬. ইস্তেঞ্জায় অধিক পানি ব্যবহার করা।
৭. পানিতে বায়ু নিঃসরণ করা।
৮. গীবত–শেকায়াত করা, মিথ্যা বলা, গালিগালাজ করা, টিভি-সিনেমা ইত্যাদি দেখা, গান-বাদ্য শ্রবণ করা, এবং যে কোনো বড় ধরনের গুনাহে লিপ্ত হওয়া। আর এ কাজগুলো যে সর্বাবস্থায় হারাম তা তো বলাই বাহুল্য। হাদিসে কুদসিতে আছে— আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন— ‘তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে, তখন সে যেন অশালীন কথাবার্তা না বলে ও হইচই না করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০৪) সুনানে আবু দাউদের রেওয়ায়েতে এ শব্দ রয়েছে, রোজাদার যেন কোনো অন্যায়-অপরাধে লিপ্ত না হয়।  (হাদিস: ৩৩৬৩ (১/৩২২)
৯. রোজা অবস্থায় শরীর থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে ইনজেকশন ইত্যাদির মাধ্যমে এ পরিমাণ রক্ত বের করা মাকরুহ, যার দ্বারা রোজাদার খুব দুর্বল হয়ে যায়। সাবিত আল বুনানি (রহ.) বলেন, হজরত আনাসকে (রা.) জিজ্ঞাসা করা হলো রোজা অবস্থায় শিঙ্গা লাগানোকে কি আপনারা মাকরুহ মনে করতেন? তিনি বলেন, ‘না। তবে এ কারণে দুর্বল হয়ে পড়লে তা মাকরুহ হবে। (বুখারি, হাদিস ১৯৪০)
১০.বীর্যপাত কিংবা সহবাসের আশংকা থাকাবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা।
১১.. স্ত্রীর ঠোঁটে চুম্বন করা— বীর্যপাত বা সহবাসের আশঙ্কা  থাকুক বা না থাকুক।
১২. বিবস্ত্র অবস্থায় স্ত্রীকে আলিঙ্গন করা।
১৩. রোজা অবস্থায় মাথায় পানি ঢালা এবং ভেজা কাপড় শরীরে জড়িয়ে রাখা।
১৪. বিনা ওজরে গ্লুকোজ জাতীয় ইনজেকশন (যা খাদ্যের চাহিদা মেটায়) নেওয়া মাকরুহ।
১৫. এমন কাজ করা মাকরুহ যা দ্বারা রোজাদার নিতান্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। যার কারণে রোজার প্রতি বিরক্তিভাব আসে। যেমন— রোজা রেখে প্রচণ্ড ভারি কাজ করা অথবা রোজা রেখে শিঙ্গা লাগানো/ রোজা রেখে রক্তদান।
সূত্র: ফাতাওয়া আলমগিরি ১/১৯৯-২০০, রদ্দুল মুহতার ৩/৩৯৯-৪০০। আল মুহিতুল বুরহানি ৩/৩৫৬
          লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস শেখ জনূরুদ্দীন (রহ.) দারুল কুরআন মাদ্রাসা, চৌধুরীপাড়া, ঢাকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।