• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

২০–দলীয় জোটের বৈঠক, লক্ষ্য যুগপৎ আন্দোলন

Reporter Name / ১৪৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২২

কোনো না কোনোভাবে ২০-দলীয় জোটে ছিল এমন ১২টি দল মিলে ‘১২–দলীয় জোট’ গঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে এর আত্মপ্রকাশ হবে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এককভাবে কর্মসূচি পালন করবে। এর বাইরে আরও ছয়টি দল মিলে ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট’ গঠন করা হচ্ছে।

সাবেক ২০-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ১০ ডিসেম্বর ঢাকার বিভাগীয় গণসমাবেশের আগের দিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০-দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান অনানুষ্ঠানিক সভা ডাকেন। সভায় তিনি শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের জানিয়ে দেন, এখন থেকে কেউ যেন ২০-দলীয় জোটের নাম ব্যবহার না করে। তার আগে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনসহ বিএনপির তৈরি করা ১০ দফা দাবি এবং রাষ্ট্র ‘মেরামতের’ ২৭ দফা রূপরেখার সারবস্তু তুলে ধরা হয়। সভায় এসব দাবি ও রূপরেখা সামনে রেখে সামনের যুগপৎ আন্দোলন কর্মসূচিতে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এক দশক আগে ২০১২ সালে ২০ দলীয় জোট গঠন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন এই জোটকে নিষ্ক্রিয় রেখে হঠাৎ করে অনানুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়ার ঘোষণায় শরিক দলগুলোর অনেকে হতাশা প্রকাশ করে। আবার কেউ কেউ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও জানান। সভায় উপস্থিত থাকা একজন নেতা প্রথম আলোকে জানান, নজরুল ইসলাম খান এসব প্রতিক্রিয়ায় কোনো জবাব না দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।

এরপরই মূলত ছোট দলগুলো নিজেরা বৈঠক করে আলাদা জোট করার সিদ্ধান্ত নেয়। যাতে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে শরিক হতে তাদের সুবিধা হয়। তারই অংশ হিসেবে আজ ‘১২–দলীয় জোট’-এর আত্মপ্রকাশ হচ্ছে। দলগুলো হলো মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাফর), সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, মোস্তাফিজুর রহমানের বাংলাদেশ লেবার পার্টি, সৈয়দ এহসানুল হুদার বাংলাদেশ জাতীয় দল, কে এম আবু তাহেরের এনডিপি, শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাংলাদেশ এলডিপি, জুলফিকার বুলবুল চৌধুরীর বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, মহিউদ্দিন ইকরামের নেতৃত্বে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, আবদুর রকীবের নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোট, নুরুল ইসলামের বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল, আবুল কাসেমের বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, তাসমিয়া প্রধানের জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।

জানা গেছে, এই জোটের নেতৃত্বে থাকবেন সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার। মুখপাত্র হিসেবে থাকবেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। গণমাধ্যম বিষয়ে সমন্বয় করবেন শাহাদাত হোসেন।

শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে জানান, এ মুহূর্তে ছোট দলগুলোর জোটভুক্ত হওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না। আর সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘২০-দলীয় জোট আর ফাংশনাল (কার্যকর) নয়। আমাদের সবাইকে ডেকে বলে দেওয়া হয়েছে, ২০ দলের নাম আর ব্যবহার না করতে। সে কারণে আমরা ১২টি দল নতুন জোট গঠন করেছি। আমাদের সক্ষমতা সীমিত। তাই যুগপৎ আন্দোলন আমরা যদি সম্মিলিতভাবে করি, তাহলে ভালো হওয়ার কথা।’

জানা গেছে, ১২–দলীয় জোটের পর প্রথম পর্যায়ে ছয়টি দল নিয়ে ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট’ গঠন করা হচ্ছে। এর নেতৃত্বে থাকছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। এই জোটে আরও থাকছেন সাইফুদ্দীন মনির ডেমোক্রেটিক লীগ (ডিএল), খন্দকার লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একাংশ, সাদেক শাওনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাপ, আজহারুল ইসলামের ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ ভাসানী) ও গরীবে নেওয়াজের বাংলাদেশ পিপলস লীগ।

ফরিদুজ্জামান ফরহাদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘১২–দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশের পর আমরা “জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট” ঘোষণা করব।’

জানা গেছে, ২০-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর ভাগাভাগি হয়ে আলাদা জোটভুক্ত হওয়ার বিষয়ে বিএনপির সায় আছে। এর কারণ, যেহেতু বিএনপি কৌশলগত কারণে ২০-দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে আর কার্যকর রাখছে না, তাতে ছোট দলগুলো একা হয়ে যাচ্ছে। ফলে সমমনা এতগুলো ছোট দলের সঙ্গে বিএনপির পক্ষে আলাদা বৈঠক করা বা যুগপৎ আন্দোলন কর্মসূচির বিষয়ে সমন্বয় করাও কঠিন হবে। বরং দলগুলো পৃথক জোটভুক্ত হলে তাদের সঙ্গে বিএনপির সমন্বয় করা সহজ হবে। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কয়েকটি শরিক দলসহ বাম প্রগতিশীল ধারার মোট সাতটি দল নিয়ে ইতিমধ্যে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ গঠন হয়েছে। এই গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের সমন্বয়ের জন্যও লিয়াজোঁ (সমন্বয়) কমিটি হচ্ছে।

সমমনা বিভিন্ন দলের নতুন জোট গঠনকে ‘ইতিবাচক’ মনে করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা জোট গঠন করছে, তারা কিন্তু দলগতভাবে আমাদের ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। যেহেতু ২০-দলীয় জোট আনুষ্ঠানিকভাবে নেই, তাই সমমনা দলগুলো নিজেরা জোট করছে, ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য।’

যদিও বিএনপির দীর্ঘদিনের অন্যতম রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী কোনো জোটে নেই। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরাও (জামায়াত) অন্যান্য জোট, দল—বিশেষ করে ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছি। ইতিমধ্যে জামায়াত ১০ দফা দাবি ঘোষণা করেছে। আগামী ২৪ ও ৩০ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচিতেও একাত্মতা ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মসূচি কীভাবে পালন হয়, সে ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ঠিক করা হবে।’

বিএনপির আরেক মিত্র অলি আহমেদের এলডিপিও কোনো জোটে নেই। এলডিপির সভাপতি অলি আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা অন্য কোনো দলের সহযোগিতা ছাড়া যুগপৎ কর্মসূচি পালন করতে সক্ষম। সে কারণে আমরা অন্য কোনো দলের সঙ্গে যাইনি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।