• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘ভাঙচুর ও লুটপাটের’ ঘটনায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি বিএনপির

Reporter Name / ১৩২ Time View
Update : রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২২

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘ভাঙচুর ও লুটপাটের’ ঘটনায় ৫০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ক্ষতির তথ্য তুলে ধরেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক, নথিপত্র, ব্যাংকের কাগজপত্র ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে একটি ডাকাতির ঘটনা।

বিএনপির এই নেতার অভিযোগ, ৭ ডিসেম্বর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি হামলা হয়। সেদিন পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢোকে। তারা বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালায়। মালামাল লুটে অংশ নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, কোনো অফিস বা গৃহে তল্লাশির সময় মালিকপক্ষ, নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সাক্ষী হিসেবে রাখার সাধারণ আইন আছে। কিন্তু বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযানের ক্ষেত্রে পুলিশ তা অগ্রাহ্য করেছে।

১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ ছিল। গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে দুই দিন আগে ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নেন দলটির কিছু নেতা-কর্মী। রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হন। পুলিশ ও বিএনপি উভয় পক্ষে অনেকে আহত হন। সেদিনই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ।

অভিযান চালিয়ে দলটির কয়েক শ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। কার্যালয় থেকে ককটেল উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।

৭ ডিসেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার তথ্য জানাতে আজ সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, পুলিশের কিছু কর্মকর্তা ও সদস্য দলীয় কর্মীর মতো প্রতিপক্ষকে হেয়-বিপদাপন্ন করার জন্য সেদিন সাদা ব্যাগে করে নিজেরাই ককটেল নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে গেছেন। পরে তাঁরা ককটেল উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছেন, যা গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়েছে।

৭ ডিসেম্বরের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে যে মামলা করা হয়েছে, তার বরাত দিয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মামলায় বলা হয়েছে, বিএনপি নেতা-কর্মীরা নাকি ইট, পাথর, বাঁশের লাঠি ও ককটেল নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে। আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত কয়েক হাজার পুলিশকে ইট, পাথর, বাঁশের লাঠি ও কথিত ককটেল দিয়ে আক্রমণ করার মতো হাস্যকর অভিযোগ জনগণ বিশ্বাস করে না।

পুলিশের এজাহারে বলা হয়েছে, তারা ৭ ডিসেম্বর বিকেলে মোট ১৭৯টি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ৪৬০টি শটগানের গুলি ছুড়েছে। এ ছাড়া ৬টি সাউন্ড বোমা নিক্ষেপ করেছে। প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হবে বলে মনে করে বিএনপি।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, পুলিশের ওপর আক্রমণের আলামত দেখানো হয়েছে, ফুটপাত ও রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া পাঁচ বস্তা ইটের টুকরা, যা শহরের যেকোনো সড়ক থেকে যেকোনো সময় সংগ্রহ করা যায়। ৮০টি বাঁশের লাঠি, যা শহরের বহু স্থানে প্রকাশ্যে বিক্রয়ের জন্য রাখা হয়। লাল টেপে মোড়ানো কথিত ককটেলের ভগ্নাংশ, যা ব্যবহৃত কাঁদানে গ্যাসের শেল কিংবা পথের আবর্জনার অংশ হতে পারে।

এসব গল্প এখন শুধুই কৌতুকের খোরাক, অক্ষমের আর্তনাদ। সংবাদ সম্মেলন থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মো. শাহজাহান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।