• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীরা আজীবন ঘৃণিত থাকবে: রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী মিনু স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বর্ণাঢ্য র‍্যালি চট্টগ্রামে চট্টলা এক্সপ্রেসের বগিতে ‘ভয়াবহ’ আগুন শ্রদ্ধার ফুলে বীর শহীদদের স্মরণ পবা পারিলা ইউনিয়নে ১৫০ জনের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ধৈর্যেরও সীমা আছে, ইরানকে সৌদির সতর্কবার্তা ট্রেনের জন্য প্লাটফর্মজুড়ে হাজারও মানুষের অপেক্ষা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল ঘোষণা করলো মালয়েশিয়া “রাজশাহীতে জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ” শিরোনামে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদে বিবৃতি

এক দশকে পুরুষের আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে

Reporter Name / ১৫৩ Time View
Update : শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আজ আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। দেশে করোনাকালে জীবিকার সংকট, অনিশ্চয়তাই বাড়াচ্ছে পুরুষের আত্মহত্যা প্রবণতা।

ঝিনাইদহ জেলায় গত বছর (২০২০) যত জন আত্মহত্যা করেছে, তাদের ৪৭ শতাংশই পুরুষ। গত ১০ বছরে (২০১০–১৯) প্রতিবছর এ জেলায় মোট পুরুষ আত্মহত্যাকারীর হার ৩৬ থেকে ৪৪ শতাংশের মধ্যে থেকেছে। বরাবরই আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি ছিল।

দেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের এ জেলায় আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। স্থানীয় বেসরকারি সংগঠন সোসাইটি ফর ভলান্টারি অ্যাকটিভিটিজ (এসওভিএ) দীর্ঘদিন ধরে আত্মহত্যা নিয়ে কাজ করছে। এ প্রতিষ্ঠানের জরিপেই আত্মহত্যা–সম্পর্কিত এ তথ্য পাওয়া গেছে।

মানসিক সহায়তা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক হেল্পলাইন ‘কান পেতে রই’–এর উপাত্তে দেখা গেছে, করোনাকালে এখানে পুরুষ কলদাতার সংখ্যা বেড়েছে। আত্মহত্যার ইচ্ছা প্রকাশ করে তরুণ শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের মধ্যে কল করার হার বেড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে আজ শুক্রবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘কাজের মাঝে জাগাই আশা।

এসওভিএর জরিপে দেখা গেছে, ২০১০ সালে ঝিনাইদহে ৩৬৬ জন আত্মহত্যা করেন। তাঁদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিল ১৩৫, নারী ২৩১। অর্থাৎ ৩৬ শতাংশের বেশি আত্মহত্যা ছিল পুরুষের। পুরুষের আত্মহত্যার এ হার ৪৪ শতাংশ ছিল ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। ২০২০ সালে আত্মহত্যার মোট সংখ্যা ছিল ৩২০ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা ছিল ১৫১, নারী ১৬৯।

হাসপাতাল ও থানা থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করে এসওভিএ। এর প্রধান মো. জাহিদুল ইসলাম  বলেন, ‘হঠাৎ করেই পুরুষ আত্মহত্যাকারী বেড়েছে। এটি শুধু ঝিনাইদহের উপাত্ত। কিন্তু করোনাকালে যে আর্থসামাজিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তার কারণে দেশজুড়েই এ পরিস্থিতি হয়েছে বলে ধারণা করতে পারি।

হেল্পলাইন ‘কান পেতে রই’–তে ২০১৩ সালের মে মাস থেকে ২০২০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সারা দেশ থেকে ২০ হাজার ৪০৯টি কল আসে। কিন্তু করোনাকালে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত কলের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৭৬৪টি। অবশ্য গত বছরের এপ্রিলের আগে এই হেল্পলাইনে দিনে ছয় ঘণ্টা কল করা যেত। গত বছর থেকে তা বাড়িয়ে ১২ ঘণ্টা করা হয়। এটাকে কল বেড়ে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য কারণ বলে মনে করেন ‘কান পেতে রই’–এর চিফ অব অপারেশন্স অরুণ দাস। তবে তিনি বলেন, ‘করোনাকালে সময় বাড়লেও কল অনেক বেশি হয়েছে, তা বলাই যায়। এ সময় মানুষ ঘরে থেকেছে। তাদের অনেকেই একাকিত্বে ভুগে কল দিয়েছেন।

এই হেল্পলাইনে করোনাকালে পুরুষের কলের সংখ্যা নারীদের চেয়ে বেড়েছে। সাত বছরে অর্থাৎ ২০১৩ থেকে ২০২০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত মোট কলের ৫০ শতাংশের বেশি ছিল নারীদের। আর পুরুষের ছিল ৪৭ শতাংশের বেশি। অপরদিকে করোনাকালে পুরুষের কল ছিল মোট কলের প্রায় ৫০ শতাংশ। আগের সাত বছরে নারীদের কলের মধ্যে ৫৩ শতাংশ ছিল আত্মহত্যার ইচ্ছা ব্যক্ত করে। করোনাকালে নারীদের এ ধরনের কলের হার ছিল ৫৬ শতাংশ। আর করোনার আগে পুরুষের কলের ৪৬ শতাংশ আত্মহত্যার ইচ্ছা জানিয়ে হলেও করোনাকালে তা ৪৩ শতাংশে নেমে আসে।

অরুণ দাস বলেন, ‘দেখা গেছে আত্মহত্যা করার ইচ্ছা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বেশি হলেও এটি সংঘটন বেশি করে পুরুষ।

করোনাকালে পুরুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক হেলালউদ্দিন আহমেদ  বলেন, ‘পুরুষেরা সাধারণত আর্থসামাজিক কারণেই আত্মহত্যা করে। আর নারীরা সাধারণত আবেগগত কারণেই করে থাকে। করোনাকালে সারা বিশ্বে বেড়েছে জীবিকার সংকট, অনিশ্চয়তা। তাই এ কারণেই পেশাজীবী, পুরুষ এবং অপেক্ষাকৃত নবীনদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটছে বলে ধারণা করা যায়।

‘এই মহামারিকালে প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত নিজের মনের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া। এর নিজের ইতিবাচক দিক ও সক্ষমতার সন্ধান জরুরি’, পরামর্শ হেলালউদ্দিন আহমেদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।