• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীরা আজীবন ঘৃণিত থাকবে: রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী মিনু স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বর্ণাঢ্য র‍্যালি চট্টগ্রামে চট্টলা এক্সপ্রেসের বগিতে ‘ভয়াবহ’ আগুন শ্রদ্ধার ফুলে বীর শহীদদের স্মরণ পবা পারিলা ইউনিয়নে ১৫০ জনের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ধৈর্যেরও সীমা আছে, ইরানকে সৌদির সতর্কবার্তা ট্রেনের জন্য প্লাটফর্মজুড়ে হাজারও মানুষের অপেক্ষা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল ঘোষণা করলো মালয়েশিয়া “রাজশাহীতে জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ” শিরোনামে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদে বিবৃতি

ফেসবুক লাইভে এসে ‘এসপির গদি’ ভাঙার হুমকি কাদের মির্জার

Reporter Name / ১৬৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নিজের এক অনুসারীকে গ্রেপ্তারের পর নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) ‘গদি’ ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। একই সঙ্গে এসপি যাতে নোয়াখালী থেকে সম্মান নিয়ে যেতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে এসব হুঁশিয়ারি দেন কাদের মির্জা।আবদুল কাদের মির্জা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণাকালে জাতীয় নির্বাচন, দলের সাংসদ, বৃহত্তর নোয়াখালীর ‘অপরাজনীতি’ নিয়ে কথা বলে আলোচনায় আসেন কাদের মির্জা। একপর্যায়ে তিনি বড় ভাই ওবায়দুল কাদের ও তাঁর স্ত্রী ইশরাতুন্নেসা কাদেরের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তোলেন।

কাদের মির্জার কথিত এসব ‘সত্যবচনের’ পর কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগে বিভক্তি দেখা দেয়। মির্জা ও মির্জাবিরোধী পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক সাংবাদিকসহ দুজন নিহত ও অনেকে আহত হন। সম্প্রতি পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুপক্ষের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।

ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আবদুল কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ অনুসারী ও চর কাঁকড়া ইউনিয়নে তাঁর (মির্জা) ঘোষিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ওরফে বাদলকে (৪২) জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর কাদের মির্জার অনুসারীরা রাত ৯টার দিকে বসুরহাট ও টেকেরবাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। নিজামের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অনুসারীকে গ্রেপ্তারের পর ফেসবুক লাইভে আসেন আবদুল কাদের মির্জা। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার লাইভে তিনি বলেন, ‘এই এসপি, যেই এসপি, যাঁর কোনো জেলাতে চাকরি ছিল না। আজকে ষড়যন্ত্র করে তাকে এখানে পাঠিয়েছে, আমার কর্মীদের নির্মূল করার জন্য। সে আজকে রবিউলকে (ডিবির পরিদর্শক) দিয়ে আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করিয়েছে। তার গায়ের ওপর যদি একটা আঙুল দেওয়া হয়, তাহলে পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। এসপি, তুমি বেশি বাড়াবাড়ি করছ। কাল রাতে আমার সাথে যেই ব্যবহার করেছ। তুমি এসপি, আমি ডিএস সমমর্যাদার প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মেয়র। কাকে ভয় দেখাও? আবদুল কাদের মির্জাকে?’

কাদের মির্জা আরও বলেন, ‘আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। আমি রক্তচক্ষুকে ভয় করি না। আমি জেল খেটেছি ১৯৮২ সাল থেকে, বারবার। কাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখাও। সাবধান করে দিচ্ছি, নোয়াখালীতে এসব অপকর্ম করলে এই এসপি, তোমাকে সাবধান করিয়ের (করছি)। আমাদের কাছে অস্ত্র নেই, কিন্তু কিল আছে। নোয়াখালীর মানুষ কিল কয়। কিল মানে মানুষ আছে, মানুষসহ নেমে তোমার এই গদি আমরা ভেঙে দিব। তুমি এই নোয়াখালী থেকে যাতে সম্মান নিয়ে না যেতে পারো, সেই ব্যবস্থা আমরা করব।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘পুলিশের এত বড় ঔদ্ধত্য, মন্ত্রীর এলাকায় নৈরাজ্য। বরিশালে এত বড় ঘটনা ঘটল, পাঁচ দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে গেছে। আমরা তো কারও আত্মীয়ও হতে পারলাম না। আমাদের অভিভাবক নাই। আমাদের এলাকায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর মতো নেতার জন্ম হয় নাই। এটাই হচ্ছে আমাদের দুর্ভাগ্য। এখানে আজ ইউএনও, এসি ল্যান্ড যেভাবে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে লুটপাট শুরু করেছে। আজকে এসপি এসে একরাইম্যা (সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী) থেকে অর্থ নিয়ে আমার কর্মীদের ওপর যে অত্যাচার শুরু করেছে, আজকে কাকে বলব? কে শুনবে? কী চলছে এগুলো।’

কাদের মির্জার বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ফেসবুক লাইভে দেওয়া কাদের মির্জার বক্তব্য শুনেছেন। পুরো বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কেন তিনি এমন বক্তব্য দিলেন।

সূত্র : প্রথম আলো


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।