• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে দেখতে হাসপাতালে মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ রাজশাহীতে নারীসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ট্যাপেন্টাডল-গাঁজা উদ্ধার দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে রাসিক প্রশাসক, শুভেচ্ছা বিনিময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার সমান: সমাজকল্যাণমন্ত্রী পেনাল্টি মিস, তবু গোলসংখ্যায় মেসির চেয়ে এগিয়ে রোনালদো মাগুরায় যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার, গুলিতে হত্যার অভিযোগ বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন নারীরা মোদির বাসভবনের পাশে মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মোবাইল খুইয়েছেন ৯ নেতা-কর্মী তিন বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহীতে জাল টাকা দিয়ে স্বর্ণের চেইন প্রতারণা, ঢাকায় গ্রেপ্তার ২

Reporter Name / ৪৩ Time View
Update : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারে জাল টাকার নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইন প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং এসআরবি-১, উত্তরা, ঢাকার সহযোগিতায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। এ সময় প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়েছে। একই পদ্ধতিতে বগুড়ায় সংঘটিত আরেকটি প্রতারণার ঘটনায় আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইনও উদ্ধার করা হয়।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন সাহেববাজার এলাকায় অবস্থিত ‘আশা জুয়েলারি স্টোর’-এর মালিক মোঃ রাসেদুল ইসলাম ও তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণের ব্যবসা করে আসছেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে এক ব্যক্তি নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পরিচয় দিয়ে দোকানে আসেন। তিনি তাঁর মেজর স্যারের মেয়ের বিয়ের জন্য স্বর্ণের গহনা কেনার কথা বলে একটি নাকফুল ৭০০ টাকায় কিনে নেন এবং আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন পরবর্তী সময়ে টাকা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

পরবর্তীতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে ওই ব্যক্তি দোকানে এসে স্বর্ণের চেইনটি নিতে চান। দোকানে চেইনটি না থাকায় পাশের বিশ্বনাথের দোকান থেকে ২২ ক্যারেটের আট আনা এক পয়েন্ট ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এনে তাঁকে দেওয়া হয়, যার তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ সময় ওই ব্যক্তি ১ হাজার টাকা মূল্যমানের ১১৫টি নতুন নোট প্রদান করেন। দোকানমালিকের বাবা নোটগুলো যাচাইয়ের জন্য পাশের দোকানে গেলে সেগুলো জাল বলে শনাক্ত করা হয়। পরে দোকানে ফিরে তিনি ওই ব্যক্তিকে আর দেখতে পাননি। এভাবে জাল নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইনটি প্রতারণার মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয়।

উক্ত ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএম মহোদয়ের নির্দেশে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও আরএমপির সিসি ক্যামেরা টিম সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে আসামির গতিবিধি শনাক্তে কাজ শুরু করে। সিসি ফুটেজ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার করে পুলিশ আসামির পরিচয় শনাক্ত ও অবস্থান নির্ণয়ে তৎপরতা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টায় এসআরবি-১, উত্তরা, ঢাকার সহযোগিতায় ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন জামতলা মোড় এলাকা থেকে এ ঘটনায় জড়িত আসামি মোঃ রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঝালকাঠি জেলার সদর থানাধীন উত্তর মারাবাটি গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। বর্তমানে তিনি ডিএমপির খিলক্ষেত থানাধীন খিলক্ষেত টানপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোঃ রিয়াজুল ইসলাম জানান, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইনটি তিনি ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন জামতলা মোড় এলাকার ‘মা জুয়েলার্স’-এর মালিক মোঃ রোমানের কাছে বিক্রি করেন। মোঃ রোমান কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানাধীন লড়িবাগ গ্রামের আলফু মিয়ার ছেলে। রিয়াজুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বেলা আনুমানিক সাড়ে ১২টায় মা জুয়েলার্সে অভিযান পরিচালনা করে মোঃ রোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে রাজশাহীর ‘আশা জুয়েলারি স্টোর’ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইনটি উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজুল ইসলাম একই কৌশলে গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বগুড়ার নিউ মার্কেটের স্বর্ণপট্টিতে অবস্থিত ‘তামান্না জুয়েলার্স’ থেকে ১ লাখ ২২ হাজার টাকার জাল নোট দিয়ে আট আনা তিন রতি তিন পয়েন্ট ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ওই চেইনটিও উদ্ধার করেছে। এ সময় গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজুল ইসলামের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৪ হাজার ৯৭২ টাকা জব্দ করা হয়।

উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজুল ইসলাম একই কৌশলে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানা ও ডিএমপির খিলক্ষেত থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২টি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।