
প্রিয়জন ডেস্কঃ রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারে জাল টাকার নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইন প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং এসআরবি-১, উত্তরা, ঢাকার সহযোগিতায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। এ সময় প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়েছে। একই পদ্ধতিতে বগুড়ায় সংঘটিত আরেকটি প্রতারণার ঘটনায় আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইনও উদ্ধার করা হয়।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন সাহেববাজার এলাকায় অবস্থিত ‘আশা জুয়েলারি স্টোর’-এর মালিক মোঃ রাসেদুল ইসলাম ও তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণের ব্যবসা করে আসছেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে এক ব্যক্তি নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পরিচয় দিয়ে দোকানে আসেন। তিনি তাঁর মেজর স্যারের মেয়ের বিয়ের জন্য স্বর্ণের গহনা কেনার কথা বলে একটি নাকফুল ৭০০ টাকায় কিনে নেন এবং আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন পরবর্তী সময়ে টাকা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান।
পরবর্তীতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে ওই ব্যক্তি দোকানে এসে স্বর্ণের চেইনটি নিতে চান। দোকানে চেইনটি না থাকায় পাশের বিশ্বনাথের দোকান থেকে ২২ ক্যারেটের আট আনা এক পয়েন্ট ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এনে তাঁকে দেওয়া হয়, যার তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ সময় ওই ব্যক্তি ১ হাজার টাকা মূল্যমানের ১১৫টি নতুন নোট প্রদান করেন। দোকানমালিকের বাবা নোটগুলো যাচাইয়ের জন্য পাশের দোকানে গেলে সেগুলো জাল বলে শনাক্ত করা হয়। পরে দোকানে ফিরে তিনি ওই ব্যক্তিকে আর দেখতে পাননি। এভাবে জাল নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইনটি প্রতারণার মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয়।
উক্ত ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএম মহোদয়ের নির্দেশে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও আরএমপির সিসি ক্যামেরা টিম সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে আসামির গতিবিধি শনাক্তে কাজ শুরু করে। সিসি ফুটেজ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার করে পুলিশ আসামির পরিচয় শনাক্ত ও অবস্থান নির্ণয়ে তৎপরতা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টায় এসআরবি-১, উত্তরা, ঢাকার সহযোগিতায় ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন জামতলা মোড় এলাকা থেকে এ ঘটনায় জড়িত আসামি মোঃ রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঝালকাঠি জেলার সদর থানাধীন উত্তর মারাবাটি গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। বর্তমানে তিনি ডিএমপির খিলক্ষেত থানাধীন খিলক্ষেত টানপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোঃ রিয়াজুল ইসলাম জানান, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইনটি তিনি ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন জামতলা মোড় এলাকার ‘মা জুয়েলার্স’-এর মালিক মোঃ রোমানের কাছে বিক্রি করেন। মোঃ রোমান কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানাধীন লড়িবাগ গ্রামের আলফু মিয়ার ছেলে। রিয়াজুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বেলা আনুমানিক সাড়ে ১২টায় মা জুয়েলার্সে অভিযান পরিচালনা করে মোঃ রোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে রাজশাহীর ‘আশা জুয়েলারি স্টোর’ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইনটি উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজুল ইসলাম একই কৌশলে গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বগুড়ার নিউ মার্কেটের স্বর্ণপট্টিতে অবস্থিত ‘তামান্না জুয়েলার্স’ থেকে ১ লাখ ২২ হাজার টাকার জাল নোট দিয়ে আট আনা তিন রতি তিন পয়েন্ট ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ওই চেইনটিও উদ্ধার করেছে। এ সময় গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজুল ইসলামের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৪ হাজার ৯৭২ টাকা জব্দ করা হয়।
উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজুল ইসলাম একই কৌশলে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানা ও ডিএমপির খিলক্ষেত থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২টি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।