• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে দেখতে হাসপাতালে মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ রাজশাহীতে নারীসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ট্যাপেন্টাডল-গাঁজা উদ্ধার দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে রাসিক প্রশাসক, শুভেচ্ছা বিনিময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার সমান: সমাজকল্যাণমন্ত্রী পেনাল্টি মিস, তবু গোলসংখ্যায় মেসির চেয়ে এগিয়ে রোনালদো মাগুরায় যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার, গুলিতে হত্যার অভিযোগ বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন নারীরা মোদির বাসভবনের পাশে মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মোবাইল খুইয়েছেন ৯ নেতা-কর্মী তিন বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিরাপত্তাহীনতার জন্য দায়ী কে?

Reporter Name / ৬২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

 শাহ্ সুফি মহিব্বুল আরেফিন

কলকাতার হোটেল অগ্নিকাণ্ড: নিরাপত্তাহীনতার দায় কার?

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নগরীর হোটেল ও আবাসিক ভবনগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। নিহতদের মধ্যে আটজনই বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ায় ঘটনাটি বাংলাদেশিদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুনের চেয়ে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়েই অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংকীর্ণ চলাচলের পথ, ছোট কক্ষ, পর্যাপ্ত বিকল্প বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকা এবং অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ—সব মিলিয়ে ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সামনে এসেছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এমন একটি ভবনে কীভাবে একাধিক হোটেল ও গেস্টহাউস পরিচালিত হচ্ছিল? ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিল কি না, জরুরি বহির্গমন পথ ঠিকঠাক ছিল কি না, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ছিল কি না এবং সর্বশেষ কবে ভবনটি পরিদর্শন করা হয়েছিল—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।

আগুন লাগার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে। আতঙ্কিত আবাসিকদের অনেকে বের হওয়ার পথ না পেয়ে বিভিন্ন কক্ষে আটকা পড়েন। কেউ কেউ শৌচাগারে আশ্রয় নিয়ে জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এমন পরিস্থিতি একটি আবাসিক হোটেলের জরুরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করে।

এ ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আগুন লাগার মুহূর্তে আবাসিকদের নিরাপদে বের করে আনা, জরুরি নির্দেশনা দেওয়া এবং উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করার মতো প্রস্তুতি ছিল কি না—তদন্তে সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

তবে দায় নির্ধারণে শুধু হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা দেখলেই চলবে না। ভবনটির অনুমোদন, হোটেল পরিচালনার বৈধতা, অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র এবং নিয়মিত তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকারও তদন্ত হওয়া দরকার। কারণ নিরাপত্তার ঘাটতি বছরের পর বছর টিকে থাকলে সেখানে শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নয়, তদারকি ব্যবস্থারও প্রশ্ন থাকে।

বিশেষ করে নিহতদের অধিকাংশ বাংলাদেশি হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কলকাতায় যান। তাঁদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো নিয়েও দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে জরুরি হলো নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত। আগুনের সূত্রপাত, ভবনের অনুমোদন, হোটেল পরিচালনার বৈধতা, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন এবং কর্তৃপক্ষের তদারকি—প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে।

শুধু তদন্ত কমিটি গঠন কিংবা কয়েকজনকে দায়ী করে বিষয়টি শেষ করা হলে চলবে না। কোথায় ব্যর্থতা ছিল এবং সেই ব্যর্থতার কারণে কেন নয়জন মানুষকে প্রাণ দিতে হলো—তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।

কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ড তাই কেবল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নয়; এটি নগর ব্যবস্থাপনা, হোটেল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় একটি সতর্কবার্তা।

মানুষ হোটেলে যায় নিরাপদ আশ্রয়ের প্রত্যাশায়। সেই আশ্রয় যদি আগুনের সময় মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—নিরাপত্তাহীনতার দায় কার?

 


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।