• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন

হামের লক্ষণ ও করণীয় কী?

Reporter Name / ৬৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ দেশে হঠাৎই বেড়েছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই ভর্তি করা হচ্ছে হামে আক্রান্ত রোগী। অনেক রোগীর মৃত্যু হওয়ায় রোগটি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে।
হাম কী?
হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগ দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যজনে ছড়ায়। অত্যন্ত সংক্রামক এ রোগটি জার্মান মিজলস, মাম্পস, রুবেলা নামেও পরিচিত।
 
হাম আক্রান্তের প্রক্রিয়া :
অ্যাপোলো হসপিটালের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, শরীরে হামের ভাইরাস প্রবেশের পর তা  দ্রুত গলা, ফুসফুস, লিম্ফ নোডের মতো অঞ্চলে বৃদ্ধি পায় এবং পরে চোখ, মূত্রনালী, রক্তনালী এমনকি মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত ভাইরাস সংস্পর্শে আসার ৯ থেকে ১১ দিন পরে শরীরে হামের লক্ষণগুলো স্পষ্ট হতে শুরু করে।
 
হামের লক্ষণ :
হামে আক্রান্ত হলে তীব্র জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত), সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং এরপর সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
 
হাম হলে করণীয় :
হাম হলে আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ির বাইরে বের হওয়া উচিত নয়। বাড়িতে বিশ্রামে থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ খাওয়া জরুরী। এ সময় রোগীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। রোগীকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর পর ভেজা তোয়ালে/গামছা বা নরম কাপড় দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। বেশি জ্বর, বমি ও শরীরে চুলকানি ও ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ খেতে হবে।
 
 হাম হলে কী খেতে হবে :
হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক সৈয়দ আফজালুল করিম বলছেন, হাম রোগীর দ্রুত আরোগ্য পেতে ডায়েট লিস্ট বা খাবার তালিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় রোগীকে স্বাভাবিক সব খাবার দিতে হবে। পুষ্টিকর ও সুষম খাবারের পাশাপাশি রোগীকে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ডায়েটে কিছুক্ষণ পর পর তরল খাবারের ওপর প্রাধান্য দিতে হবে। এ সময় কমলা, তরমুজ, ডাবের মতো ফলগুলো রোগীকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
 
হাম আক্রান্ত রোগীর সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা না হলে এ রোগ থেকে নিউমোনিয়া, কানে ইনফেকশন এমনকি মস্তিষ্কে ম্যালিডাইসিস রোগ হতে পারে। তাই এ রোগে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা নেয়া খুব জরুরি। ভবিষ্যতে এ রোগ থেকে বাঁচতে ভ্যাকসিন বা টিকার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।