• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন

রুয়েটের নিরাপত্তার দায়িত্বে আ.লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা

Reporter Name / ২৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নিরাপত্তা কর্মকর্তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা এবং তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর আলোচনায় এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আবুল হাশেম।

তাঁকে ঘিরে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল হাশেম।

জানা গেছে, ২০০০ সালে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা আবুল হাশেম টেকনিশিয়ান পদে রুয়েটে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি কয়েক মাস ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর অধীনে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ৭৫ জন আনসার সদস্য। ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও তাঁর ওপর।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে তাঁর দপ্তরে ফুল দিয়ে বরণ করার একটি ছবি সামনে আসে। এ ছাড়া লিটনের নির্বাচনী প্রচারণায় নৌকা প্রতীকের লিফলেট হাতে নেতৃত্ব দেওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবি-ভিডিও ঘিরেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আবুল হাশেমকে রুয়েট ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলা হয়েছে। সম্প্রতি তাঁর বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, তিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ। রুয়েটের কর্মকর্তা হয়েও তাঁকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর নৌকা প্রতীকের লিফলেট হাতে প্রচারণায় নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে রাখায় আমরা উদ্বিগ্ন। ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের শঙ্কা রয়েছে।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল হাশেম বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, কখনো ছিলও না। রুয়েটে কর্মরত থাকার সুবাদে কর্মকর্তা সমিতির বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আলোচিত ছবিটি কর্মকর্তা সমিতির আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব পালনের সময় তোলা। সাধারণ সভায় সদস্যদের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে তিনি ওই কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় কমিটির সদস্যরা মিলে সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তবে সেটি কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে নয়, কর্মকর্তা সমিতির পক্ষ থেকে। ছবিটি কে বা কারা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।

লিটনের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে আবুল হাশেম বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি কখনো লিটনের প্রচারণায় যাননি। তবে কর্মকর্তা সমিতির ব্যানারে সমিতির অন্য সদস্যরা যখন ভোট চাইতে গেছেন, তখন তাঁদের সঙ্গে হয়তো তিনিও গিয়েছেন।

এদিকে নিরাপত্তা কর্মকর্তা আবুল হাশেমের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘আবুল হাশেম কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর মতো সাহসী কর্মকর্তা রুয়েট ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন। এ কারণেই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘তিনি ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম প্রতিরোধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। সুতরাং যারা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ভিত্তিহীন প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের অনেকেই ক্যাম্পাসে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের কাজে লিপ্ত।’


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।