• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

ভগ্নস্তূপে পালিত হলো ঋত্বিকের ১০১তম জন্মবার্ষিকী

Reporter Name / ২২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ রাজশাহীতে উদযাপিত হলো উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক কুমার ঘটকের ১০১তম জন্মবর্ষ। আজ ৪ নভেম্বর ২০২৬, বুধবার ঋত্বিক কুমার ঘটক এর বসতভিটায় (যার একাংশ এখন রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল) নানাবিধ আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মশতবর্ষ উদযাপন করা হয়েছে।

প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটি ঋত্বিক ১০১তম জন্মবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নানাবিধ কর্মসূচীর আয়োজন করেছে। ঋত্বিক শতবর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সংগীত ও গণসংগীত, প্রদীপ প্রজ্বলন, ঋত্বিক আলোচনা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সদস্য রিয়া করিমের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন ঋত্বিক ১০১তম বর্ষপূর্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন মাসুদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ঋত্বিক ১০১তম বর্ষপূর্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান। জাতীয় সঙ্গীত ও গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন খেলাঘর আসর রাজশাহী।

ঋত্বিক এর জীবনকর্ম ও সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন ড. শিখা সরকার, অধ্যক্ষ, নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহী; জুয়েল কিবরিয়া, সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, রাজশাহী কলেজ; ড. ফারুকুর রহমান ফয়সল, জেলা কালচারাল অফিসার, রাজশাহী, ওয়ালিউর রহমান বাবু, সভাপতি ডিরেক্টরস্ এন্ড এ্যাক্টরস্ গিল্ড, রাজশাহী, সীমা আক্তার, সভাপতি, সেলুলয়েড ফিল্ম সোসাইটিসহ প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, বাংলা ভাষার সবচেয়ে শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্রকারদের একজন ঋত্বিক কুমার ঘটক। ঋত্বিক কুমার ঘটক সেই ক্ষণজন্মা বাঙালি চলচ্চিত্রকারদের মধ্যে একজন যাঁর হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্র বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসন পেয়েছে। তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘সুবর্ণরেখা’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘অযান্ত্রিক’ এবং ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ প্রভৃতি চলচ্চিত্র বাংলা চলচ্চিত্রের অমূল্য সম্পদ। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই চলচ্চিত্রকারের এসব চলচ্চিত্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রের পাঠ্য হিসেবে স্বীকৃত।  ১৯২৫ সালের ৪ নভেম্বর এই চলচ্চিত্রকার জন্মগ্রহণ করেন। বিগত ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট তার এই বসতভিটাটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে যেটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ঘৃন্য অপরাধ।’

অংশগ্রহণকারীরা, ‘ঋত্বিক কুমার ঘটক’ এর পৈতৃক বসতভিটা ভাঙার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; ঋত্বিক কুমার ঘটকের পৈতৃক বসতবাড়ির টিকে থাকা অংশের (০.১৬০৩ একর) জমি সংরক্ষণ করে তাতে পরবর্তীকালে ঋত্বিকের নামে চলচ্চিত্রকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য উক্ত জমি অবমুক্ত ঘোষণা করা; রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাবেক সামরিক শাসক এরশাদের সময়ে ১৯৮৭-৮৮ সালের দিকে এই জমি ইজারা পায়। এই ইজারা পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং ইজারা বাতিল সরকারিভাবে বা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা; যেখানে পরবর্তীকালে বহুতল ‘ঋত্বিক কমপ্লেক্স’ ভবন নির্মাণ করা হবে মূলত ঋত্বিক কুমার ঘটকের পৈতৃক ভিটার আবহকে কেন্দ্র করে। সেখানে গড়ে তোলা হবে ‘ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র কেন্দ্র’ এবং ‘ঋত্বিক ফিল্ম ইন্সটিটিউট’ যেখানে চলচ্চিত্রবিষয়ক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। সেখানে আরও থাকবে ঋত্বিক সংগ্রহশালা বা সাংস্কৃতিক জাদুঘর, স্টুডিও, সেমিনার হল, সিনেপ্লেক্স, এক্সিবিশন গ্যালারি, বিভিন্ন ধরণের ল্যাব, গ্রন্থাগার, প্রভৃতি। থাকবে সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য বিশ্রামাগারসহ চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।