
প্রিয়জন ডেস্কঃ ইউরোপ স্বপ্নে সাগরে ১৮ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের প্রধান দুই সদস্যকে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে এখন চলছে মামলার প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে উন্নত জীবনের আশায় সাগরপথে পাড়ি জমাতে গিয়ে প্রাণ হারানো এই ১৮ জনের মৃত্যুর পেছনে কাজ করা পাচারকারী চক্রের শিকড় খুঁজে বের করতে মাঠে নেমেছে তদন্তকারীরা।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে যাদের ইউরোপে অবৈধ পথে নেওয়ার জন্য লিবিয়ায় জড়ো করা হয়েছিল, এতে ভূমিকা রাখা দুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের একজন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ঈদগাঁও এলাকার আজিজ মিয়া। আরেকজন ছাতক উপজেলার দুলাল মিয়া। দালালদের মাধ্যমে জনপ্রতি ১২ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে আজিজ ও দুলাল। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ মিশন ইতোমধ্যে গ্রিসের কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহযোগিতা এবং নিহতদের মরদেহের সন্ধান পেলে ফিরিয়ে আনার উপায় খোঁজা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জীবিত উদ্ধার হওয়া একজন জানান, একটি ছোট নৌকায় তারা ৪৩ জন ছিলেন, যার মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। তাদের একটি বড় নৌকায় পাঠানোর কথা বলে শেষ মুহূর্তে ছোট নৌকায় তুলে দেয় পাচারকারীরা।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভেসে থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ বলেন, যে নৌকায় বাংলাদেশিদের লিবিয়া থেকে গ্রিসে নেওয়ার হচ্ছিল, তার চালক ছিলেন সুদানের এক নাগরিক। যাত্রা শুরুর আগে চালকের কাছে মানচিত্র ও জিপিএস দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি এসব হারিয়ে ফেলায় দিগ্ভ্রান্ত হয়ে ৬ দিন নৌকা সাগরে ভাসতে থাকে। খাবার ও পানি সংকটের কারণে অনেকে মারা যান। এ ছাড়া লিবিয়ায় যেখানে তাদের রাখা হয় সেখানেও ঠিকঠাক খাবার দেওয়া হতো না। তাই আগে থেকে অনেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।