প্রিয়জন ডেস্কঃ বছর ধরে চলা এক অলিখিত নিয়ম ভাঙলেন তরুণ সংসদ সদস্য Hasnat Abdullah। সৌদি আরব থেকে আসা খেজুর সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাতে না পারার ‘রহস্য’ এবার ফেসবুক লাইভে প্রকাশ্যে দেখানো হলো। হাসনাত লাইভে প্রতিটি কার্টন খুলে খেজুরের সংখ্যা, ধরন এবং বিতরণের তালিকা প্রকাশ করলেন।
রমজান মাসে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খেজুর এসে নামার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লাইভে তিনি জানান, মোট খেজুরের সংখ্যা ১০ কোটি ১২ লাখ ৫ হাজার ৪টি। প্রতিটি প্রকার—আজওয়া, মরিয়ম—এবং খেজুরে কোনো ত্রুটি, পোকা বা অতিরিক্ত শুকনো হওয়ার হিসাব পাই-চার্টে তুলে ধরা হয়েছে। এমন বিশদ তথ্য সৌদি যুবরাজ Mohammed bin Salman–কেও অবাক করেছে।
লাইভ চলাকালীন হাসনাত সরাসরি সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপে যুক্ত হন। যুবরাজ মুগ্ধ হয়ে বলেন, বাংলাদেশের খেজুর বিতরণের এত বিস্তারিত হিসাব তার দেশের অ্যানুয়াল অডিটেও নেই। হাসনাত ব্যাখ্যা করেন, আগে খেজুর কিছু ভিআইপির হাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাত না। এবার পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং হাতে-হাতে গণনা করা হয়েছে, তাই কোনো খেজুরও ‘নিখোঁজ’ হয়নি।
হাসনাত জানান, এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন খেজুর’ নামে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কার্টন হাতে খোলা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবীরা গ্লাভস পরে একে একে গুনেছেন। ৭১২টি বিচিহীন খেজুরও আলাদাভাবে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
সৌদি যুবরাজ ভীষণ মুগ্ধ হয়ে বলেন, তাদের দেশে এমন বিশদ হিসাবও নেই। হাসনাত জানান, বাংলাদেশে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এছাড়াও, ঈদের ত্রাণ সামগ্রী, লুঙ্গি ও চালের বস্তার হিসাবও একইভাবে বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত করা হবে। যুবরাজ হাসি দিয়ে বললেন, ‘পরের বছর হয়তো উটও পাঠাবো—তুমি কি তার লোমও গণনা করতে পারবে?’ হাসনাত উত্তর দিলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, প্রতিটি পদক্ষেপ জনগণের সামনে স্বচ্ছ হবে।’
শেষে সৌদি যুবরাজ নির্দেশ দিলেন, আগামী বছর বাংলাদেশে খেজুরের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হোক, কারণ তরুণ নেতৃত্বের এই উদ্যোগ দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। হাসনাত তার স্বেচ্ছাসেবীদের নির্দেশ দেন, এখন চালের বস্তার গণনা শুরু করতে। নতুন এক স্বচ্ছতার যজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে।






















