প্রিয়জন ডেস্কঃ রমজানের সময় মিসরে ইফতারের মুহূর্তটি জানানোর জন্য অনন্য প্রথা অনুসরণ করা হয়—কামানের বিস্ফোরণ। স্থানীয়রা এটিকে শুধুমাত্র সময় জানানোর মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং রমজানের সাংস্কৃতিক প্রতীক ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে মানেন। এই প্রথা ‘মিদফা আল-ইফতার’ বা ‘রমজান ক্যানন’ নামে পরিচিত।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, এই প্রথার শুরু হতে পারে ১৪৫৫ সালে। তখন মমলুক সুলতান খুশ কাদামকে জার্মান তৈরি একটি কামান উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। রমজানের প্রথম দিনে সূর্যাস্তের সময় তিনি কামান পরীক্ষা করলে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয়রা মনে করেন, রোজা ভাঙার সময় হয়েছে। পরবর্তীতে সুলতান নিয়মিত সূর্যাস্তে কামান ছোড়ার নির্দেশ দেন।
১৮০৫–১৮৪৮ সালের মধ্যে মিসরের শাসক মুহাম্মদ আলি পাশাও কামান ছোড়ার প্রথা চালু করেন। তিনি সেনা প্রস্তুতির জন্য কামান পরীক্ষা করতেন এবং দুর্ঘটনাক্রমে রমজানের প্রথম দিনে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর এটি কায়রো থেকে জেরুজালেম, দামাস্কাস ও বাগদাদে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯০৭ সালে কুয়েতে পৌঁছায় এবং পরে পুরো খাড়ি অঞ্চলে প্রচলিত হয়।
ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য ১৯৯২ সালের পর কয়েক দশক বন্ধ থাকার পর এবার আবারও কায়রোর ঐতিহাসিক দুর্গ সালাহ আল-দিন সিটাডেল থেকে কামান ছোড়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসরীয়রা রমজানের প্রথম দিনে ঐতিহ্য অনুযায়ী রোজা ভাঙেন।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে—সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও জর্ডান—ও এই প্রথা কিছু রূপে অনুসরণ করা হয়। মিসরীয়রা এটিকে শুধু সময় জানানোর মাধ্যম মনে করেন না, বরং রমজানের আবেগ, ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গ্রহণ করেন।






















