• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না পবা পারিলা ইউনিয়নে ১৫০ জনের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ধৈর্যেরও সীমা আছে, ইরানকে সৌদির সতর্কবার্তা ট্রেনের জন্য প্লাটফর্মজুড়ে হাজারও মানুষের অপেক্ষা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল ঘোষণা করলো মালয়েশিয়া “রাজশাহীতে জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ” শিরোনামে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদে বিবৃতি নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানির মৃত্যু নিশ্চিত করলো ইরান: রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজিকে আইনি নোটিশ রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানা এলাকা হতে ২১টি ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৫। টানা ৭ দিনের ছুটি শুরু আজ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ভয়াবহ ড্রোন ও রকেট হামলা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি: নেপথ্যের প্রভাবশালী থেকে ক্ষমতার শীর্ষে

Reporter Name / ৩২ Time View
Update : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। স্বল্পভাষী ও প্রচারবিমুখ হিসেবে পরিচিত ৫৬ বছর বয়সী মুজতবা খামেনিকে তার বাবার কট্টরপন্থি নীতি ও আদর্শের উত্তরাধিকারী হিসেবেই দেখা হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বাবার দীর্ঘ শাসনামলে মুজতবা খামেনি কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদে ছিলেন না। তবে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে তিনি নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বলে ধারণা করা হয়। রক্ষণশীল রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এবং ক্ষমতাধর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গেও তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। বাহিনীটি এরই মধ্যে নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছে।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগের সমর্থন লাভ করেন।

দীর্ঘদিন জনসম্মুখে কম উপস্থিতি এবং গণমাধ্যমে সীমিত ভূমিকার কারণে মুজতবা খামেনির প্রকৃত রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষ ও কূটনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা ছিলো। সোমবার মধ্যরাতের কিছু পর ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস এক বিবৃতিতে তাকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করে।

১৯৭৯ সালের ইরান রেভ্যুলেশনের মাধ্যমে ইরানে রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটলেও শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বে বংশানুক্রমিক পরিবর্তনের পথই বেছে নিলো এ সংস্থা। যদিও আলি খামেনি ২০২৪ সালে নীতিগতভাবে এমন উত্তরাধিকার ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

মুজতবা খামেনি ১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের পবিত্র শহর মাসহাদে জন্মগ্রহণ করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলার মধ্য দিয়েই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘাতের সূচনা হয় বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মত।

কাঁচা-পাকা দাড়ি ও কালো পাগড়ি পরিহিত মুজতবা খামেনি একজন ধর্মীয় পণ্ডিত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর বংশধর হিসেবে তিনি ‘সৈয়দ’ পরিচয়ের প্রতীক কালো পাগড়ি পরেন। ১৯৮০–এর দশকে সংঘটিত ইরান-ইরাক যুদ্ধেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মুজতবা খামেনির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, তিনি কোনো সরকারি পদে না থাকলেও বাবার হয়ে কাজ করতেন এবং আঞ্চলিক কৌশল ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।

বিরোধীদের অভিযোগ, ২০০৯ সালে তৎকালীন অতিরক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদের পুনর্নির্বাচনের পর যে বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দমনে মুজতবা খামেনির ভূমিকা ছিলো।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুজতবা খামেনির প্রায় ১০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ রয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে তেল বিক্রির অর্থ তিনি ব্রিটেনের বিলাসবহুল আবাসন, ইউরোপের হোটেল এবং দুবাইয়ের স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষাজীবনে মুজতবা কোম শহরের ধর্মীয় সেমিনারিতে ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং সেখানে শিক্ষকতাও করেছেন। এতদিন তার ধর্মীয় পদবি ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ থাকলেও সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তাকে ‘আয়াতুল্লাহ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মুজতবা খামেনির স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ আদেলও সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন।

এদিকে, ইসরাইল ইরানের নতুন এই নেতৃত্বকে সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো উত্তরসূরি এবং যারা তাকে নিয়োগ দিয়েছে তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা হবে।

উল্লেখ্য, অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য সংখ্যা ৮৮ এবং তারা প্রতি আট বছর অন্তর নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে ইরানের প্রতিষ্ঠাতা নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলি খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। এবার মুজতবা খামেনিকে দায়িত্ব দেয়ার মাধ্যমে সংস্থাটি দ্বিতীয়বারের মতো নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলো


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।