
প্রিয়জন ডেস্কঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আজ শুরু হওয়া শিল্পাঞ্চলের ছুটিকে কেন্দ্র রাজধানী ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার মানুষের ঢল নেমেছে। এতে মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বাস সংকটের সুযোগে কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে এবং অতিরিক্ত ভাড়া গুনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে শত-শত মানুষজন দাঁড়িয়ে আছে। আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল দেখা গেছে। কলেজগেট ও গাজীপুরা এলাকায় যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আবার আন্তঃজেলা ও অন্তঃজেলার বাসগুলোও বাড়তি আয়ের আশায় স্বাভাবিক রুট ছেড়ে একাধিক ট্রিপ মারছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
যাত্রীরা জানান, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে যেখানে সাধারণত বাসভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। বাস না পেয়ে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রাকেও উঠছেন। ট্রাকে জনপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।
হোসেন নামের ময়মনসিংহগামী এক যাত্রী বলেন, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে সাধারণত ২৫০ টাকা ভাড়া লাগে। আজ সকালে বাসে উঠতে গিয়ে ৬০০ টাকা চাইল। বাধ্য হয়ে দিতে হয়েছে। এত ভোগান্তি আগের ঈদেও দেখিনি।
এক গার্মেন্টকর্মী বলেন, ভোটের জন্য ছুটি দিয়েছে, কিন্তু বাসই তো পাচ্ছি না। সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। এখন মনে হচ্ছে ট্রাকে উঠতে হবে। সেখানেও ৪০০ টাকা নিচ্ছে। বাস কম, যাত্রী বেশি। এই সুযোগে সবাই ভাড়া বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সরকার সাধারণ ও বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে। সরকার ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। নির্বাচন দিবস ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষিত ছিল।
এছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।