• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি চলছে, বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা আয়ারল‍্যান্ডের সঙ্গে সিরিজে সমতায় ফিরলো বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বন্দরে বেড়েছে আমদানি, নেই জাহাজ জট ঢাবিতে কাল থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু জেলখানায় খালেদা জিয়ার খাবারে বিষ মেশানো হয়েছিলো- রিজভী ফরিদপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত শতাধিক খালেদা জিয়াকে সিঙ্গাপুর বা ইউরোপে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে-মাহমুদুর রহমান মান্না জামায়াতের নায়েবে আমির হলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনা এবি পার্টির মাজার জিয়ারত করে প্রচারণায় নামলেন মিজানুর রহমান মিনু

চট্টগ্রাম বন্দরে বেড়েছে আমদানি, নেই জাহাজ জট

Reporter Name / ১৬ Time View
Update : রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বেড়েছে পণ্য আমদানি। আগের তুলনায় জাহাজ বেশি আসলেও বহির্নোঙরে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না। ফলে ১০ মাসেই রেকর্ড পরিমাণ কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে বন্দর। বছর শেষে আগের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন মাইলফলক গড়ার অপেক্ষায় বন্দর। ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অটোমেশনসহ সামাগ্রিকভাবে বন্দরের দক্ষতা বাড়ায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

ডলারের উচ্চ মূল্য, নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় সতর্ক আমদানিকারকরা। বাজারের চাহিদা, লাভ ক্ষতি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমদানির জন্য এলসি খুলছেন তারা।

এরপরেও চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস হাউসের পরিসংখ্যান বলছে পণ্য আমদানি বেড়েছে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে তিন কোটি ৩৩ লাখ ৫১ হাজার টন পণ্য আমদানি হয়েছে। যার মূল্য প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা। গেল বছরের একই সময়ে তুলনায় পণ্যের হিসেবে ৫৬ লাখ টন ও টাকার অঙ্কে ১৯ হাজার ১২২ কোটি টাকার বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে।

আমদানি বাড়ায়, বেড়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আয়ও। অক্টোবর পর্যন্ত সংস্থাটি রাজস্ব আহরণ করেছে ২৬ হাজার ১০২ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও গত বছরের চেয়ে আয় বেড়েছে সাড়ে নয় শতাংশের বেশি।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার এইচ এম কবির বলেন, ‘পণ্য আমদানির তুলনায় গত বছরের তুলনায় একইসময়ে অক্টোবর পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। এটি পায় ২৩.১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে পণ্য আমদানির পরিমাণের বিবেচনায়।’

এদিকে রাজস্ব কর্মকর্তাদের কলম বিরতি, পরিবহন ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও পরিস্থিতি ভালোভাবেই সামাল দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসেই রেকর্ড প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টিইউএস কনটেইনার ও ১১ কোটি ৫০ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে দেশের প্রধান এ সমুদ্র বন্দর। গেল বছরের চেয়ে এ সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ। আর জাহাজ বেশি এসেছে ৩৫১টি। তাই বছর শেষে নতুন রেকর্ডের মাইলফলক ছোঁয়ার প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার ও মেরিন সদস্য আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘এ বছরে আমরা আশা করছি ডিসেম্বরের প্রথম নাগাদই আমরা গত অর্থবছরে যে ক্যাপাসিটি দেখিয়েছিলাম সেটাকে আমরা ক্লোজ করতে পারবো। পুরো ক্যালেন্ডার ইয়ারে আমরা আশা করছি একটা মাইলফলক স্পর্শ করতে পারবো।’

সবচেয়ে বড় অর্জন, আগে একটি জাহাজকে বহির্নোঙরে তিন থেকে দশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও বর্তমানে অধিকাংশ জাহাজ এক দিনেই বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারছে। এতে কমেছে বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকালে। যাতে কমেছে শিপিং কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয়।

আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়েটিং টাইমটা এখন শূন্য। আমরা খুব প্রাউডলিই বলবো এটা, কারণ আমরা চেষ্টা করেছি কন্টিনিউয়াস ব্যবসাবান্ধব এবং জনবান্ধব করার জন্য। নভেম্বরের আজকে পর্যন্ত আউটারে কোনো কন্টেইনার জাহাজকে ওয়েটিংয়ে থাকতে হয়নি।’

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘প্রফেশনাল ভালো অপারেটর যদি আসে, সেটা দেশি বা বিদেশি হোক। আমরা মনে করি আমাদের দেশের স্বার্থে পোর্টকে যদি আমরা ডেভেলপ করতে চাই, পোর্টকে যদি আমরা আরও কার্যকর করতে চাই তাহলে আমাদের মর্ডান ইকুয়েপমেন্ট লাগবে, মর্ডান টেকনিশিয়ান লাগবে, মর্ডান এক্সপার্ট লাগবে।’

২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর রেকর্ড ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করলেও কনটেইনার পরিবহনের বৈশ্বিক তালিকায় এক ধাপ পিছিয়ে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।