• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

শাহজালালের আগুনে নিঃস্ব বহু ব্যবসায়ী; অনিশ্চয়তায় প্রবাসগামীদের স্বপ্ন

Reporter Name / ৬৭ Time View
Update : রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্স, সঙ্গে ছাই হয়েছে বহু ব্যবসায়ীর স্বপ্ন, থমকে গেছে কয়েক হাজার মানুষের প্রবাস যাত্রা। সাত ঘণ্টা বিমান ওঠানামা বন্ধ থাকার পর রাত থেকে ফের সচল হয়েছে বিমানবন্দরের কার্যক্রম। তবে কার্গো ভিলেজ থেকে এখনও ধোঁয়া উঠছে।

কে ভেবেছিলো কবে, বিমানবন্দরের মতো বিশেষ সংরক্ষিত এলাকায় এমন ছোবল দেবে সর্বগ্রাসী আগুন।

সিনেমার মত দেখতে, কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে কালো ধোঁয়া। সাপের মত পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দমকা বাতাসে, পুড়ে যাচ্ছে আমদানি পণ্য, অফিস, দপ্তর। চোখের সামনে ছাই হয়ে যাচ্ছে আকাশপথে আমদানি-রপ্তানির প্রধান হাব কার্গো ভিলেজের, আমদানি টার্মিনাল।

প্রচেষ্টারও তো কম ছিলো না। একযোগে আগুন মোকাবিলায় ফায়ার ব্রিগেডের ৩৭ ইউনিট। বিমানবন্দরে নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিমানবাহিনীর বিভিন্ন বিভাগের পাঁচ শতাধিক সদস্য, আনসার, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশের পাশাপাশি সেনবাহিনীও। কিন্তু সবাই মিলে এ আগুনকে বাগে আনতে কেটে গেছে সাতটি ঘণ্টা। কিন্তু আগুন জ্বলছিলো এর পরেও।

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়, কার্গো ভিলেজের রপ্তানি অংশে আগুনের ছোঁয়া লাগেনি। তবে সকাল অবধি তারা জানাতে পারেনি আমদানি অংশ কতটা পুড়েছে। আমদানিকারকদের একজন, আহসান পাটোয়ারি- মধ্যরাত পেরিয়ে, তখনও আশা করছেন- আগুন লাগার ঠিক আগ মুহূর্তে খালাস হওয়া তার শিপমেন্ট হয়তো আগুনে পোড়েনি।

আহসান পাটোয়ারির ভাতিজা বলেন, ‘আমার চাচা কী করবে এখন দিশেহারা হয়ে আছে। উনি বাড়িতেও যাচ্ছে না।’

এটা ঠিক, এ আগুন এমন একটা সময়ে লাগলো, যখন বাংলাদেশকে দেয়া কার্গো সুবিধা ভারত বন্ধ করে দেবার পর, গেল ছয় মাস ধরে কার্গো খাতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। বিশাল কার্গো টার্মিনালের কুরিয়ার সেকশনের আগুন কীভাবে, দুর্দমনীয় গতিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল, গার্মেন্টস, কমার্শিয়াল, প্রযুক্তি ইকুইপমেন্টর মতো ডেঞ্জারাস, ফার্মাসিউটিক্যাল কিংবা একদম, ভিআইপি লাউঞ্জ লাগোয়া বিশেষ ইউনিট পর্যন্ত পৌঁছে গেল, তারও সদুত্তর মেলে নি এখনও। দেশের প্রায় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ করেছে নাশকতার ষড়যন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ। কিন্তু আসলে কী ঘটেছে, তার উত্তরে, আগুন ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বাতাসের চেয়ে আর কাউকে বেশি দায়ী করতে দেখা যায়নি, সংস্থাগুলোকে।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, ‘কার্গোর ভেতরে কম্পার্টমেন্ট করা। খোপ খোপ করা, কনক্রিটের দেয়ার। ফলে এগুলোকে প্রতিটাকে ফাইট করে করে আমাদের আগাতে হয়েছে। যেহেতু বাতাস বেশি ছিল, খোলা জায়গায় যে এক্সপোজ আইটেমগুলো ছিল দ্রুত তাদের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে গিয়েছিল।’

অবশ্য এ ঘটনার কারণ উদঘাটন, ক্ষতি নিরূপণ ও ভবিষ্যতের পথরেখা তৈরিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এনবিআর আলাদা আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গভীর রাত অবধি দফায় দফায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা বাণিজ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সত্য জানতে তারা এ তদন্ত কমিটির ওপরই ভরসা করছেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘আমাদের এ মুহূর্তে দরকার হচ্ছে সংকটকে অতিক্রম করা। আমরা দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই যেন আল্লাহ আমাদের জন্য এ কাজকে সহজ করে দেন।’

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে যখন দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন, তখন প্রবাস যাত্রার অনিশ্চয়তায় কপালে চিন্তার ভাঁজ হাজারও যাত্রীর। বিমানবন্দরের আকাশে কালো ধোঁয়া যত উড়েছে ততই ভোগান্তি বেড়েছে যাত্রীদের।

কারও কারও বিদায়ের বেদনা রূপান্তর হয়েছে কর্ম হারানোর চাপা আতঙ্কে। আগুনে ভয়াবহতায় দুপুর থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া সব ধরনের ফ্লাইট রাত ৯টায় ওঠানামা শুরু করলেও, বাতিল হয় অনেকের যাত্রা। অনেকের অপেক্ষার প্রহর বাড়ে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা।

যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমার ফ্লাইট রাত ২টায় ছিল, সৌদি এয়ারলাইন্সে। সেটা ক্যান্সেল করে সকাল ১০টায় কাতার এয়ারলাইন্সে দিয়ে দিছে।’

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের দিনের পরের তারিখে যাদের যাত্রা তারাও শঙ্কিত উড়াল নিয়ে। শুধু বিদায় নয় দেশে আসতেও ভোগান্তিতে পড়ে অনেকে।

আতঙ্ক আর বিদায়ের বেদনায় এক হয়ে প্রবাস যাত্রা কষ্ট দ্বিগুণ করেছে যাত্রীদের। তবে দুর্ঘটনা যেন প্রভাব না ফেলে কর্মে প্রত্যাশা ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীদের। সকল বাধা কাটিয়ে তারা যেতে চায় প্রবাসে, অবদান রাখতে চায় দেশের রেমিট্যান্সে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।