• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

রাকসু: চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার, বাদ যাচ্ছে না মেস

Reporter Name / ৭৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের বাকি আর মাত্র দুইদিন। আগামী ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

ছুটির দিনগুলোতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীর আনাগোনা কম থাকায় আবাসিক হল ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেসগুলোতে চলছে প্রচার। বিতরণ করছেন ছাপানো লিফলেট ও ইশতেহার।

জানা যায়, সকাল ১০টা থেকে আবাসিক হলগুলোতে বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৩-৫ জন প্রতিনিধির একেকটি দল শিক্ষার্থীদের কক্ষগুলোতে গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। বিকেলে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে ও সন্ধ্য়ায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর, কাজলা, মেহেরচন্ডীসহ আশপাশের মেসগুলোতে প্রচার চালাচ্ছেন তারা। আর সাধারণত রাত ১০-১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন চায়ের দোকান ও রাস্তায় প্রচার চালাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী প্রণব কুমার সাহা বলেন, “ছুটি হওয়ায় আজ ক্যাম্পাসে যাইনি, হলেই ছিলাম সারাদিন। বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কক্ষে আসছেন। নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরছেন। সাময়িকভাবে পড়াশুনায় একটু সমস্যা হলেও নির্বাচনের মৌসুমটা উপভোগ করছি।”

ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর বলেন, “সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদোর প্রচার চলছে। আবাসিক হল ও মেসগুলোতে বেশি ফোকাস করছি। বিকেলে শিক্ষার্থীরা হাটতে বের হন। তখন আমরা ক্যাম্পাসেও প্রচার চালাব। আচরণবিধি মেনে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আমাদের প্রচার চলবে।”

ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “নির্বাচন খুবই সন্নিকটে। আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। প্যানেলের কয়েকজন প্রার্থীর সমন্বয়ে অনেকগুলো টিম করা হয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে আমাদের ইশতেহার তুলে ধরছে। শিক্ষার্থীরা ভালো সাড়া দিচ্ছে।”

এদিক, রাবিতে মোট ভোটার প্রায় ২৯ হাজার। এর মধ্যে ৬৮ শতাংশই অনাবাসিক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হল ও একটি আন্তর্জাতিক ডরমিটরিতে আবাসিক সুবিধা আছে মাত্র ৯ হাজার ৬৭৩ শিক্ষার্থীর জন্য। বাকিরা আশপাশের এলাকা যেমন বিনোদপুর, কাজলা, ভদ্রা ও মেহেরচণ্ডীতে মেস বা ভাড়া বাসায় থাকেন। এসব অনাবাসিক ভোটারদের কাছে পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রার্থীদের জন্য।

বড় সংগঠনগুলোর প্রার্থীরা তাদের দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য এটি রীতিমতো কঠিন কাজ। কর্মী সংখ্যা কম থাকায় অনেক প্রার্থী নিজেরাই মেসে গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।

স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মোহাম্মদ মুসা বলেন, “দলীয় প্রার্থীদের মতো আমাদের বিভাগে বিভাগে কর্মী নেই। তাই প্রতিটি মেসে যেতে অনেক সময় ও শ্রম লাগছে। তবুও যতটা পারি চেষ্টা করছি।”

রাকসুর প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই, তাই আমাদের কর্মীও সীমিত। শহরের নানা এলাকায় থাকা ভোটারদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যদি সব ভোটারের কাছে গিয়ে আমাদের পরিকল্পনা জানাতে পারতাম, ভালো ফল পেতাম।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল রহমান বলেন, “আমাদের মেসে রাজনৈতিক দলগুলোর প্যানেলের প্রার্থীরা একাধিকবার এসেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন মাত্র একবার এসেছেন। দলের প্রার্থীরা প্রচারে অনেক বেশি সক্রিয়।”

রাকসু নির্বাচনে ২৩টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ এবং এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬ জন। ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিতসহ মোট ১২টি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও, সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের পাঁচটি পদে ৫৮ জন প্রার্থী ও হল সংসদ নির্বাচনে ১৫টি পদে মোট ১৭টি হলে ৫৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ এবং পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। পূনর্বিন্যস্ত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। গণনা শেষে সেদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।