• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি

চাকসু নির্বাচন-নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় প্রার্থী-শিক্ষার্থীরা

Reporter Name / ৯৪ Time View
Update : সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ তিন যুগ পর হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) নির্বাচন। পাহাড় বেষ্টিত এ ক্যাম্পাসে নেই নিরাপত্তা বেষ্টনী। এতে গ্রামবাসীসহ বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতে চাকসু নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা দপ্তর থাকলেও ঢাল নেই- তলোয়ার নেই অবস্থা। সেজন্য নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে সেনা মোতায়েনের দাবি।

আগস্টের শেষ দুদিন স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষের ব্যাপকতা এবং হতাহতের সংখ্যা মিলিয়ে এমন পরিস্থিতি ৬০ বছর বয়সী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম।

সামনে আরও একটি বড় আয়োজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রায় ৩৬ বছর পর ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাকসু নির্বাচন। পাহাড় বেষ্টিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু জায়গায় নেই সীমানা প্রাচীর। অনেক প্রবেশ পথও অরক্ষিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা দপ্তর নামে একটি স্বতন্ত্র দপ্তর থাকলেও শিক্ষার্থীরা এটিকে বলছেন ঠুঁটো জগন্নাথ। এমন অবস্থায় চাকসু নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের।

চাকসু স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলনের ভিপি পদপ্রার্থী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসের সবচেয়ে বড় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে এ প্রশাসনের অধীনে। এ জায়গা থেকে আমরা এখনও শঙ্কিত যে আসলে প্রশাসন কতটুকু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।’

চাকসু দ্রোহ পর্ষদের ভিপি পদপ্রার্থী ঋজু লক্ষী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আমাদের যে নিরাপত্তারক্ষী আছে, পাশাপাশি প্রশাসন যদি মনে করে যে এখানে পুলিশ বাহিনী থাকতে পারে। কিন্তু আসলে একটা ছাত্রসংসদ নির্বাচনে যতটুকু নিরাপত্তা দরকার ততটুকু যেন থাকে সেটা আমরা চাই।’

এরইমধ্যে নিরাপত্তা ইস্যুতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে চবি প্রশাসন। এ নিয়ে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈঠক সম্পন্ন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আলোচনার সূত্র ধরেই সাজানো হবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. কামাল উদ্দীন বলেন, ‘বাহিরের কেউ যেন নির্বাচনকে ইনফ্লুয়েন্স করতে না পারে কোনো দল, মত, গোষ্ঠীর। সে জায়গা থেকে আমরা বদ্ধপরিকর। আলাদা লেয়ারে আমরা সে কাজগুলো করবো। আমরা হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের কোনো জটলা তৈরি করা বা কোনো ধরনের বহিরাগত এসে এখানে পরিবেশ বিনষ্ট করাকে আমরা একেবারে সবচেয়ে বেশি প্রায়োরিটি দিয়ে বন্ধ করার জন্য আমরা কাজ করছি।’

চাকসু নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন সাড়ে ২৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। ভোটের আগে প্রচারণায় চলবে কথার লড়াই। সেজন্য প্রচারণার সময় থেকেই সার্বিক নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি শিক্ষার্থীদের।

চাকসু সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের ভিপি পদপ্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘এখানে ভোটাররা ঘুরে বেরাচ্ছে, প্রার্থীরা ঘুরছে। তারা বিভিন্ন জনের কাছে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, যদি সকলেই মনে করে যে একটা নিরাপদ ক্যাম্পাস দরকার, এর জন্য পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবার মাধ্যমে একটা নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

চাকসু ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী শাফায়াত হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে সে পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়র ৩০ হাজার শিক্ষার্থী একসঙ্গে ক্যাম্পাসে থাকবেন। সেজন্য আমি মনে করি বাইরে থেকে ফোর্স নিয়ে আসাই ভালো’

চাকসু নির্বাচনের দিন নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অংশ বন্ধ করে দেয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়াও ওই দিন শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ইস্যুকৃত পাশ ও স্টিকার ছাড়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না কোনো যানবাহন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।