• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

র ‘মহাকাশে উদ্ভিদ’ জন্মানোর গবেষণায় নেত্রকোনার তারিক

Reporter Name / ১৯৪ Time View
Update : রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৪

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা)। মার্কিন ফেডারেল সরকারের একটি স্বাধীন সংস্থা এটি। যা বিমান চালনাবিদ্যা ও মহাকাশসম্পর্কিত গবেষণা করে থাকে। এবার ‘মহাকাশে উদ্ভিদ’ জন্মানোর গবেষণায় কাজ করছে সংস্থাটির চার সদস্যের একটি দল। আর এই দলে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার ছেলে মোহাম্মদ তারিকুজ্জামান (তারিক)।

জানা গেছে, নাসার চার সদস্যের ‘লা টেক বায়োমাস’ দল মহাকাশে উদ্ভিদ জন্মানোর অনন্য উপায় নিয়ে গবেষণা করছে। আর এ দলটিতেই রয়েছেন লুইসিয়ানা টেক ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সের পিএইচডির ছাত্র মোহাম্মদ তারিকুজ্জামান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের পেড়ি গ্রামে জন্ম গবেষক মোহাম্মদ তারিকুজ্জামানের। তার বাবা প্রয়াত মমতাজ উদ্দিন। মা মালেকা খাতুন। পাঁচ বোন ও তিন ভাই তাদের। ভাইদের মধ্যে তারিকুজ্জামান সবার ছোট। তিনি বেড়ে উঠেছেন নিজ উপজেলা কেন্দুয়া এবং ময়মনসিংহ শহরে।

মোহাম্মদ তারিকুজ্জামানের সঙ্গে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কথা হলে তিনি মহাকাশে উদ্ভিদ জন্মানোর গবেষণায় নাসার গবেষণা দলে জায়গা করে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার “লা টেক বায়োমাস” দল মহাকাশে উদ্ভিদ জন্মানোর অনন্য উপায় নিয়ে গবেষণা করছে। আমরা মানুষের মূত্র ব্যবহার করে মাটি ছাড়া মহাকাশে কৃষি চাষের সম্ভাবনা দেখছি। আমাদের দলটি আরও নতুন নতুন প্রকল্প নিয়ে নতুন কিছু আবিষ্কারের কথা ভাবছে।’

তারিক বলেন, ‘এরকম গবেষণাসহ আগামী জীবনে আমি সকলের কাছে দোয়া চাই। এ সম্মান যেমন আমাদের পরিবারের, তেমনি দেশের। একজন বিজ্ঞানী হিসেবে গবেষণায় বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম-সম্মান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবো, এমনটাই প্রত্যাশা করি।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ তারিকুজ্জামান তার শিক্ষাজীবনে নিজ ইউনিয়নের সান্দিকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম, ২০০৭ সালে সান্দিকোনা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি, ২০০৯ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি এবং ২০১৪ সালে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হন। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে মেধার ছাপ রেখেছেন।

শিক্ষাজীবন শেষ করে মোহাম্মদ তারিকুজ্জামান সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ২০১৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ঢাকায় এনার্জিপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডে চাকরি করেন। পরে একপর্যায়ে স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান।

জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতি মোহাম্মদ তারিকুজ্জামানের প্রবল আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকে বর্তমানে তিনি আমেরিকার লুইজিয়ানা টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স অব সায়েন্স ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (২০২১-২০২৩), পিএইচডি ইন মাইক্রো অ্যান্ড ন্যানোস্ক্যাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (২০২১-২০২৫) অধ্যয়নরত আছেন।

তারিকুজ্জামানের গবেষণার বিষয়ে তার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকেই তারিকুজ্জামান খুবই মেধাবী এবং জেদি প্রকৃতির ছেলে ছিল। কোনও সময়ই পড়াশোনার ব্যাপারে সে আপস করতো না। সর্বক্ষেত্রেই সে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। আমি তার সাফল্য কামনা করি।’

তারিকুজ্জামানের প্রতিবেশী কলেজ শিক্ষক মাহবুব আলম বলেন, ‘আমি ছোটকাল থেকেই দেখেছি, তিনি (তারিকুজ্জামান) খুব দুরন্ত এবং মেধাবী ছিলেন। সব সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন।’

তারিকুজ্জামানের বড় ভাই জিলু মিয়া বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের এমন সাফল্যে আমরা অনেক বেশি আনন্দিত এবং গর্বিত। তার এ সম্মান যেমন আমাদের পরিবারের, তেমনি দেশেরও। একজন বিজ্ঞানী হিসেবে ছোট ভাই গবেষণায় বাংলাদেশের হয়ে সুনাম ও সম্মান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভাইবোনের মধ্যে তারিক ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী ছিল। তার পড়াশোনা ছাড়া অন্য কোনও নেশা ছিল না। সারাক্ষণ শুধু পড়তো। তার ইচ্ছে ছিল বড় বিজ্ঞানী হবে। তার সে আশা আল্লাহ পূর্ণ করেছে।’

এ বিষয়ে কথা হলে স্থানীয় কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, ‘কেন্দুয়া উপজেলার উর্বর মাটির কৃতিসন্তান মোহাম্মদ তারিকুজ্জামান নাসার গবেষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। আমি তার সার্বিক সফলতা কামনা করি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।