• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

দুই হাজার ৮৭ মামলা চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে ঝুলছে

Reporter Name / ১৫২ Time View
Update : বুধবার, ১ মে, ২০২৪

চট্টগ্রামের দুটি শ্রম আদালতে ঝুলছে দুই হাজার ৮৭টি মামলা। এর মধ্যে প্রথম শ্রম আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা এক হাজার ৪৭৯টি এবং দ্বিতীয় শ্রম আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৬০৮টি। শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব মামলা বিচারাধীন।

আইন অনুযায়ী শ্রম আদালতে মামলা করার ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হয়। এ সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করা না গেলে আরও ৯০ দিন সময় নেওয়া যায়। তবে সেক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে বেশ কিছু মামলা আছে যেগুলো বছরের পর বছর ধরে নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে বিশেষ করে চাকরির ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরাই বেশি মামলা করে থাকেন। বিনা কারণে চাকরিচ্যুত করা, চাকরি পুনর্বহাল, বকেয়া মজুরি আদায়, যেকোনও ধরনের পাওনাদি আদায় ও চাকরিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শ্রম আদালতে মামলা করা যায়। এ ছাড়া কোনও প্রতিষ্ঠান বা কারখানার মালিক বা কোনও শ্রমিক শ্রম আইনের আদেশ পালন না করলে বা লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়। ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাচনসংক্রান্ত মামলাগুলো করা হয় শ্রম আদালতে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম আদালতের সিনিয়র আইনজীবী জিয়া হাবিব আহসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শ্রম আদালতের মামলা ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা থাকলেও তা নানা কারণে হয়ে ওঠে না। মামলা দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বিচারকশূন্যতা, সমন জারিতে দেরি হওয়া, বাদী উপস্থিত থাকলে দেখা যায় বিবাদী আসে না আবার বিবাদী উপস্থিত থাকলে বাদী অনুপস্থিত ইত্যাদি। এ ছাড়া অনেকসময় মামলা চলাকালীন দেখা যায় বাদী মারা গেছেন। তখন বাদী পরিবর্তনের বিষয় আসে। আবার অনেক মামলায় দেখা যায় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকে। এসব কারণে চাইলেও ৬০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামের আইনজীবীরা চট্টগ্রাম আদালত ভবনকেন্দ্রিক। শুধু শ্রম আদালতটির অবস্থান নগরীর পাঁচলাইশ থানাসংলগ্ন। যে কারণে অনেক আইনজীবী চাইলেও শ্রম আদালতে মামলা পরিচালনা করতে যেতে পারেন না। কেননা, একই সময়ে চট্টগ্রামে আদালতেও গুরুত্বপূর্ণ মামলা থাকতে পারে। তাই আমাদের আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শ্রম আদালতটিও যাতে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে নিয়ে আসা হয়। তাতে বিচারপ্রার্থীরা আরও বেশি সুবিধা পাবেন।’

চট্টগ্রাম প্রথম শ্রম আদালতের রেজিস্ট্রার আরিফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রথম শ্রম আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা এক হাজার ৪৭৯টি। এসব মামলার মধ্যে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ আছে ১১০টি মামলায়। এ আদালতে ৪৫৬টি মামলা আছে যেগুলো পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ আদালতে মামলা করা হয় ৪৮টি এবং নিষ্পত্তি হয় ৩৭টি। ফেব্রুয়ারিতে ২১টি মামলা করা হয় এবং নিষ্পত্তি হয় ৪৪টি। মার্চে ৪৬টি মামলা করা হয় এবং ৭৯টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়।

চট্টগ্রাম দ্বিতীয় শ্রম আদালতের বেঞ্চ সহকারী কাউসার হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমানে এ আদালতে ৬০৮টি মামলা বিচারাধীন আছে। এপ্রিল মাসে ৬৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের উপমহাব্যবস্থাপক শিপন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শ্রম আইনের বেশির ভাগ অধ্যায় নিয়ে আমরাই কাজ করে থাকি। এটা আমাদের রুটিন কাজের অংশ। যেমন শ্রমিকদের ঠিকমতো মালিকপক্ষ পাওনাদি পরিশোধ করছে কিনা, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, আইডি কার্ড দিলো কিনা, কারখানায় শ্রমিকদের কাজ করার পরিবেশ আছে কিনা, মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হচ্ছে কিনাসহ নানা বিষয়াদি আমরা দেখে থাকি। অসংগতি পেলে শ্রম আদালতে আমরা আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করে থাকি। শুধু তাই নয়, কোনও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক আমাদের কাছে অভিযোগ করলে উভয় পক্ষকে নিয়ে আমরা বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করে থাকি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।