• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

রাজশাহীতে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার; দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

Reporter Name / ১৫৩ Time View
Update : শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

রাজশাহী মহানগরীতে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে বাড়ির ছাদের টর্চারসেলে আটক রেখে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ৪ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে আরএমপি মহানগর ডিবি পুলিশ। এসময় তাদের বাড়ির ছাদের টর্চারসেল হতে বিপুল পরিমাণে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার হেতেমখাঁর মো: জোয়াদুল আহাদ খাঁন ফারুকের ছেলে মো: আরেফিন আহাদ খাঁন সানি (৪২), মৃত আজাদ আলীর ছেলে মো:  মোস্তাক আহম্মেদ ফাহিম (২২), মো: নুরুজ্জামানের ছেলে মো: পারভেজ (২৭) ও চন্দ্রিমা থানার মেহেরচন্ডি কড়াইতলার মো: আলম সরকারের ছেলে মো: সাব্বির সরকার (২৫)। সাব্বির হেতেমখাঁ এলাকার বাসিন্দা।

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় আরএমপি (ডিবি) অফিসে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো: আল মামুন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর থানার বাহাদুরপুরের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো: দেলোয়ার হেসেন মন্ডল হরেক মালের ব্যবসা ও ফেরি করে চুল ক্রয় করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সন্ধ্যা ৭:০০ ঘটিকায় এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে চুল বিক্রয়ের কথা বলে লোকনাথ স্কুলের সামনে আসতে বলেন। দেলোয়ার তার ছোট ভাই আলাউদ্দিনের অটোরিক্সায় সন্ধ্যা ৭:৩০ ঘটিকায় লোকনাথ স্কুলের সামনে যান। সেখানে আসামি সানি ও ফাহিম মোটরাইসাইকেল নিয়ে এসে তাদের আটক করে। এরপর ফাহিম অটোরিক্সায় উঠে দেলোয়ারের পেটে চাকু ধরে অপহরণ করে বোয়ালিয়া থানাধীন হেতেমখাঁ বড় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে একটি দুইতলা বাসার নিচতলায় আটক করে রাখে। সেখানে আসামিরা তাদের মারপিট করে এবং দেলোয়ারের পকেট থেকে ৩ হাজার ১৩০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

কিছুক্ষণ পরে দেলোয়ারকে ঐ বাড়ির ছাদের উপর একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব হতে অবস্থান নেওয়া অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন ব্যক্তি তার হাত বেঁধে ফেলে এবং তারা ঘরের দেওয়ালে সাজিয়ে রাখা বিভিন্ন অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দেলোয়ার ও তার ছোট ভাইকে বাড়ি থেকে দুই লক্ষ টাকা বা জমির দলিল নিয়ে আসতে বলে। ভিকটিম টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা তাকে ব্যাপক মারধর করে।

এ অবস্থা দেখে তার ছোট ভাই আলাউদ্দিন বাড়িতে বিষয়টি জানায়। পরবর্তীতে রাত ১১:৩০ ঘটিকায় দেলোয়ারের বাড়ি থেকে তার জামাই আলামিন দুইজনকে সাথে নিয়ে এসে অপহরণকারীদের সাথে কথা বলেন। পরের দিন দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় অপহরণকারীরা ৫০,০০০/- টাকা মুক্তিপণ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে দেলোয়ার মহানগর ডিবি পুলিশের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন।

উক্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) বিজয় বসাক, বিপিএম, পিপিএম (বার) এর নেতৃত্বে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো: আল মামুন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো: আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, পুলিশ পরিদর্শক মো: আশিক ইকবাল, এসআই সুমন কুমার সাহা, ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম, আরএমপি সিআরটি ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে নিয়ে আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করে গ্রেফতারের অভিযান শুরু করেন।

পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের ঐ টিম গতকাল ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ভোর ৪ ঘটিকায় নগরীর বোয়ালিয়া থানার হেতেমখাঁ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি মো: আরেফিন আহাদ খাঁন সানিকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। এসময় তার বাড়ির ছাদের টর্চারসেল হতে বিপুল পরিমাণে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি সানির দেওয়া তথ্যমতে, একই দিন সকাল ৭:৩০ ঘটিকায় আসামি ফাহিমকে এবং সকাল ৮:৩০ ঘটিকায় রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপর আসামি মো: পারভেজ ও সাব্বিরকে গ্রেফতার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা জানায়, তারা সহজ সরল মানুষকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অপহরণ করে আসামি সানির বাড়ীর ছাদের উপর নির্মিত টর্চারসেলে আটক রেখে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায় করে। আসামিরা আরও জানায়, তারা সংঘবদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন যাবত এ কাজ করে আসছে।

পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানায় অপহরণ ও অস্ত্র আইনে দুইটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।

নিউজ: আরএমপি


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।