• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি ২২ বছর পর রাজশাহীতে যাচ্ছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা

রাজশাহীতে নানা ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা

Reporter Name / ১৫৯ Time View
Update : রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২

মহানগরীতে নানা ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসীরা। হত্যা, সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি, মাদক বিক্রি ও মাদক গ্রহণ ছাড়াও তারা চুরি ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়াচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের তারা উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানি করছে। গ্রেফতার হলেও আইনের দুর্বলতার কারণে আদালত থেকে তারা দ্রুত ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। জামিনে বেরিয়ে তারা আবারও একই অপরাধে জড়াচ্ছে। মহানগরীতে পাঁচ শতাধিক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যের ডাটাবেজ তৈরি করেছে পুলিশের সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ। র‌্যাবও জেলাব্যাপী কিশোর গ্যাঙের তালিকা তৈরি।

গোদাগাড়ী, বাগমারা, চারঘাট ও বাঘা এলাকায়ও কিশোর গ্যাঙের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। ৬ অক্টোবর বাগমারা উপজেলার বারইপাড়া গ্রামে এক বৌভাতের অনুষ্ঠানে দুই স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে একদল কিশোর। ওড়না ধরে তারা টানাটানি করে। দুই কিশোরকে ধরে অভিভাবকদের খবর দেন লোকজন। অভিভাবকরা মুচলেকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেয়। এ ঘটনার জের ধরে ৯ অক্টোবর পাশের বিলবাড়ি গ্রামে এক যুবক গেলে তাকে মারধর করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ নিয়ে বারইপাড়া ও বিলবাড়ি গ্রামের কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে যুবক সাজেদুর রহমান গুরুতর আহত হয়। ১১ অক্টোবর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সাজেদুর মারা যায়। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, বিয়েবাড়িতে দুই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। কিশোর গ্যাং সদস্যদের কারণেই সাজেদুরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন পুলিশ।

এ ছাড়া ৭ সেপ্টেম্বর গোদাগাড়ীতে স্কুলছাত্র সামিউল আলমকে অপহরণ ও পরে পরিত্যক্ত ইটভাটায় নিয়ে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন করে একদল কিশোর সন্ত্রাসী। সামিউলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। রামেক হাসপাতালে এক সপ্তাহ চিকিৎসা নিয়েছে সামিউল। সামিউল বাড়ি ফিরলেও ট্রমা থেকে বেরুতে পারেনি বলে জানিয়েছেন তার বাবা জাহাঙ্গীর আলম। এ ঘটনার হোতা কিশোর গ্যাং লিডার পলাশ স্কুলছাত্রী অপহরণ মামলায় কারাগারে। গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, কিশোর গ্যাঙের ১৫ সদস্যের তালিকা পেয়েছি। মাদক সেবনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে তারা জামিনে বেরিয়ে আসে এবং এলাকায় আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। নতুন তালিকা হলে আবারও অভিযান চালানো হবে।

জানা গেছে, কিশোর সানাউল্লাহ সানার নেতৃত্বে গোদাগাড়ীতে মাদকাসক্ত ১০ থেকে ১২ জনের একটি গ্রুপ বেশ সক্রিয়। সন্ধ্যা হলেই মোটরসাইকেল নিয়ে তারা পৌর এলাকার একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ায়। মাদক ব্যবসায়ীদের বখাটে সন্তানরা দামি মোটরসাইকেল নিয়ে সারা দিন বিভিন্ন স্থানে দাপিয়ে বেড়ায়। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রধান ফটকের সামনে তাদের দেখতে পাওয়া যায়। পৌর এলাকার রেলবাজার ও মাদারপুরে কিশোরদের তিনটি গ্রুপ রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।