• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না ঈদ উপলক্ষে ট্রেন যাত্রীদের সহায়তায় রাসিক প্রশাসকের ব্যতিক্রমী প্রশংসনীয় উদ্যোগ ‘বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারে বাধা নেই’ দেশের সব পেট্রোল পাম্পে নিয়োগ করা হবে ট্যাগ অফিসার নেপালে নতুন সরকারের শপথের পরদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রেপ্তার রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার মৃত্যু পদ্মায় বাসডুবিতে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসছে সংসদীয় কমিটি ও সরকারি দল স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীরা আজীবন ঘৃণিত থাকবে: রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী মিনু স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বর্ণাঢ্য র‍্যালি চট্টগ্রামে চট্টলা এক্সপ্রেসের বগিতে ‘ভয়াবহ’ আগুন

প্রতিবন্ধী না হয়েও ভাতা পান ছাত্রলীগ নেতা

Reporter Name / ১৩৮ Time View
Update : শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

শারীরিক কোনো সমস্যা নেই। অসচ্ছলও নন। তবুও প্রতিবন্ধী ভাতা তোলেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু (৩০)। সম্প্রতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া চালু করলে সবার সামনে আসে বিষয়টি।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম দিব্যি দামি মোটরসাইকেল নিয়ে চলাফেরা করেন। সব সময় পরেন দামি পোশাক। এমন সুস্থ মানুষ কীভাবে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে ভাতা তোলেন সেটাই এখন সবার প্রশ্ন।

জানা যায়, মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের বসিনটারী গ্রামের নজরুল ইসলাম সরকারের ছেলে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মাইদুল ইসলাম বাবু মেজ। তিনি ২০১৬ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর করেন। ২০১৯ সালে বিয়ে করেন এবং বর্তমানে এক কন্যাসন্তানের জনক। রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসাও করেন মাইদুল। সবশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি। ২০১৮ সালে আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ওই কমিটির দায়িত্ব পালন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবন্ধী না হয়েও সমাজসেবা কার্যালয় এ ছাত্রলীগ নেতাকে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেয়। শুধু তাই নয়, এরপর মাইদুল ইসলাম প্রতিবন্ধী কোটায় সরকারি চাকরির চেষ্টাও করেন।জানা গেছে, সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মাইদুল ইসলামের নামে ইস্যু করা বইয়ের নম্বর ৭৯৬। ওই বইয়ের বিপরীতে দুই দফায় মোট ১১ হাজার ২৫০ টাকা উত্তোলন করেছেন তিনি।

আদিতমারী সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয় ও সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর মাইদুলের অ্যাকাউন্টে ৯ হাজার টাকা অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে জমা হয়। এই টাকা তিনি ওই বছরের ২০ অক্টোবর উত্তোলন করেন। এরপর দ্বিতীয় দফায় গত ১৫ মার্চ একই খাত থেকে ভাতা হিসেবে আরও ২ হাজার ২৫০ টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসেবে জমা হয়। এই টাকা তিনি উত্তোলন করেন গত ২৩ মার্চ।

আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু মোবাইল ফোনে বলেন, ‘২০১৮ সালে আদিতমারীতে আমার ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা করে। এতে আমি গুরুতর আহত হই। আমার ডান হাতের একটা আঙুলে বিকলঙ্গতা দেখা দেয়। চিকিৎসকের প্রত্যয়নও আছে। তারপর থেকে আমি প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপ ফরম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিই। পরে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা উত্তোলন করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমি সম্পূর্ণ সুস্থ। প্রতিবন্ধী ভাতার সমুদয় টাকা ফেরত দিতে চাই। এ বিষয়টি আমি আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রওশন আলী মণ্ডলকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি।’

প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপ সূত্রে জানা যায়, মাইদুল ইসলাম দুর্ঘটনাজনিত শারীরিক মৃদু টাইপের প্রতিবন্ধী বলে ফরমে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিকিৎসকের প্রত্যয়নে তিনি মাঝারি মাত্রার শারীরিক প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসক। প্রত্যয়নটি দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূর আরেফিন প্রধান। ২০২০ সালের ২৩ জুন প্রতিবন্ধিতা সংক্রান্ত সরকারি ফরমে স্বাক্ষর করেন সমাজসেবা কর্মকর্তা রওশন আলী মণ্ডল।

ভাদাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রোকুনুজ্জামান জানান, ছাত্রলীগ সম্পাদক মাইদুল ইসলামের প্রতিবন্ধী ভাতা তোলার বিষয়টি তার জানা নেই। প্রতিবন্ধী ভাতা উপজেলার কমিটি থেকে পাস হয় বলেও জানান তিনি।

সমাজসেবা কর্মকর্তা রওশন আলী মণ্ডল বলেন, ‘ওই সময় মাত্র ১৯ দিন আগে আমি এই উপজেলায় যোগদান করি। প্রতিবন্ধী ভাতাপ্রাপ্তদের সব কাজ শেষ করে আমার সামনে ফাইল আসে তাতে স্বাক্ষর করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতার টাকা উত্তোলনের জন্য মাইদুল ইসলাম অনলাইনে নিবন্ধন করেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।