• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

১৫ শিক্ষার্থীর চুল ইচ্ছেমতো কেটে দিলেন প্রধান শিক্ষক

Reporter Name / ২৩ Time View
Update : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

প্রিয়জন ডেস্কঃ নওগাঁর বদলগাছীতে শৃঙ্খলার নামে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে বিকৃতভাবে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিব্রত হয়ে পড়েছে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধর ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনেরও অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে অসমভাবে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক। এতে শিশুদের চুলের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়ে যায়। এর আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। কয়েক দিন আগে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করায় তার দুই পা রক্তাক্ত হয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে ভয়ে ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে চাইছে না।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চুল কেটে দেওয়া এবং মারধরের অভিযোগ করতে দেখা যায়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মিলন নামে এক অভিভাবক বলেন, তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে বাড়িতে ফিরে ছেলের মাথার চুল খোপ খোপ করে কাটা দেখতে পান। তাঁর ছেলে ফাহামুদ হোসাইনের মাথায় আগে স্বাভাবিক চুল ছিল। এ ঘটনায় শনিবার বিদ্যালয়ে ঝামেলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন বলেন, প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল এভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে। শীতের মধ্যে এমন ঘটনায় শিশুরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। এর আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

অভিভাবক মিতু বানু অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে তাঁর ছেলেকে মারধর করায় দুই পা রক্তাক্ত হয়ে যায়। এরপর থেকে ভয়ে সে বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। একজন শিক্ষকের এমন আচরণে শিশুদের বিদ্যালয়ে নিরাপত্তাবোধ নষ্ট হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর এসে পড়ছিল। এ কারণে কয়েকজনের মাথার চুল কেটে দিয়েছেন। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা না বলে বা নাপিতের ব্যবস্থা না করে কেন নিজে চুল কেটেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দেখতে খারাপ লাগছিল। তাই কপালের ওপরের চুল কেটে দিয়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। বর্তমানে প্রশিক্ষণে থাকায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রহুল আমিনকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।