• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না রাসিক প্রশাসকের নির্দেশে ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শনে সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি দল রাসিক প্রশাসকের নির্দেশে নগরীর হরিজন পল্লী এলাকার ড্রেনের কাদামাটি অপসারণ কাজ শুরু দিল্লি ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন স্টার্ক রাজশাহীতে নতুন জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম আগামী তিন মাসে যেকোনো বারের তুলনায় বাড়বে রাজস্ব আয়: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র ঈদের ছুটি শেষে বিকেল ৩টায় বসছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন ঈদ উপলক্ষে ট্রেন যাত্রীদের সহায়তায় রাসিক প্রশাসকের ব্যতিক্রমী প্রশংসনীয় উদ্যোগ ‘বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারে বাধা নেই’ দেশের সব পেট্রোল পাম্পে নিয়োগ করা হবে ট্যাগ অফিসার

সাঈদের স্মরণে আজ পালিত হচ্ছে ‘জুলাই শহিদ দিবস’

Reporter Name / ১১৯ Time View
Update : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ গেলো বছর আজকের এই দিনে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগে দেশ ধাবিত হয় গণঅভ্যুত্থানের দিকে। সেই দিনের স্মরণে আজ (বুধবার, ১৬ জুলাই) পালিত হচ্ছে ‘জুলাই শহিদ দিবস’। আবু সাঈদকে কেবল গুলি করে হত্যা-ই করা হয়নি, মৃত্যুর পর মরদেহ নিয়ে চলে লুকোচুরি। গোপনে পোস্টমর্টেমে নেয়া হয় আর মরদেহ হস্তান্তরে চলে গড়িমসি, গভীর রাতে হয় দাফনের চেষ্টাও। বেগম রোকেয়ার ফটক থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতাল, তারপর মৃত্যু।

 

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ছিল আষাঢ়ের শেষদিন। কিন্তু আকাশের সব মেঘ যেন পুঞ্জিভুত হয়েছিল ছাত্র-জনতার হৃদয়ে। উত্তাল ক্যাম্পাসে হালকা বৃষ্টির সাথে চলেছে মুহূর্মুহু গুলি। তাই এদিন বর্ষণের বদলে, বেশি ঝরেছে ছাত্র-জনতার রক্তধারা।

 

‘কোটা না মেধা?’ স্লোগানে উত্তরের রাজপথে ছাত্র-জনতার ঢল, উত্তাল নুরলদিনের শহর। কবি সৈয়দ শামসুল হকের ‘জাগো বাহে কোনঠে সবায়’— এ হাঁক যেন ধ্বনিত হচ্ছিল রংপুরের পথে পথে। ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা কেমন ছিল, তা বর্ণনায় যেন প্রত্যক্ষদর্শীরা স্বাক্ষাৎ যমদূতকে দেখেন।

 

বেলা তখন দ্বি-প্রহর। বেগম রোকেয়ার মূল ফটকের সামনে তখন শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্ততি। ফটক আটকে পুলিশ প্রশাসনের আন্দোলন দমনের কঠোর প্রস্তুতি। সঙ্গে ছাত্রলীগ আর বহিরাগত আওয়ামী কর্মীদের সশস্ত্র অবস্থান।

 

তাদের সমন্বিত হামলায় যখন ছিন্নভিন্ন ছাত্র-জনতার মিছিল, সেখানেই জুলাই বিপ্লবের ফিনিক্স পাখি হয়ে আবির্ভুত হন আবু সাঈদ। দু’হাত প্রসারিত করে যেন বলতে চাইলেন এভাবে মানুষ মারা চলবে না।

 

বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে সম্মুখে দাঁড়িয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি যখন সহযোদ্ধাদের বাঁধভাঙ্গার সাহস যোগালো, তখনই যেন আগুনে ঘী ঢাললো পুলিশ, আবু সাঈদের বুকে নিশানা করে কয়েকটি বুলেট ছুড়ে।

 

প্রথম শহিদ আবু সাঈদের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন গতিপথ তৈরি হয়ে গেলো। সেই আত্মত্যাগেই গণঅভ্যুত্থানের দিকে ধাবিত হয় সারাদেশ।

 

এদিন কেবল আবু সাঈদকে হত্যা করেই থেমে থাকেনি স্বৈরাচারের প্রশাসন। তার মরদেহ নিয়েও করা হয় নানা নাটকীয়তা। হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে মরদেহ কেড়ে নেয় পুলিশ। হাসপাতালে নিয়ে হিমঘর থেকে সরিয়ে ফেলা হয় নিথর দেহ, হস্তান্তরেও করা হয় গড়িমসি।

 

লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িবহর এলাকাজুড়ে সৃষ্টি করে আতঙ্ক। পরিবারকে চাপ দেয়া হয় রাতেই দাফনের জন্য। সেদিনের বিষীকাময় পরিস্থিতি এখনও দগদগে প্রত্যক্ষদর্শী বৈষম্যবিরোধী শিক্ষকদের চোখে-মুখে।

 

আবু সাঈদের মৃত্যুর মাধ্যমে জুলাইয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে বিপ্লবে রূপ দেয়ার নেপথ্যে, ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ এখন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

 

১৬ জুলাই আবু সাঈদের সাহস ও বীরত্ব যেভাবে হয়ে উঠেছিল মিছিলের মোহনা, তার বছর পূর্তীতে মানুষের প্রত্যাশা, সেভাবেই সকল বৈষম্য ও নিপিড়নের বিরুদ্ধে বাংলার তারুণ্য উচ্চারণ করবে— ‘বন্ধু নামো পথে, কথা হবে যেতে যেতে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।