• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না রাসিক প্রশাসকের নির্দেশে ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শনে সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি দল রাসিক প্রশাসকের নির্দেশে নগরীর হরিজন পল্লী এলাকার ড্রেনের কাদামাটি অপসারণ কাজ শুরু দিল্লি ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন স্টার্ক রাজশাহীতে নতুন জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম আগামী তিন মাসে যেকোনো বারের তুলনায় বাড়বে রাজস্ব আয়: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র ঈদের ছুটি শেষে বিকেল ৩টায় বসছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন ঈদ উপলক্ষে ট্রেন যাত্রীদের সহায়তায় রাসিক প্রশাসকের ব্যতিক্রমী প্রশংসনীয় উদ্যোগ ‘বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারে বাধা নেই’ দেশের সব পেট্রোল পাম্পে নিয়োগ করা হবে ট্যাগ অফিসার

মেট্রোরেলের পিলারে পিলারে ‘ফিরে দেখা ফ্যাসিস্ট রেজিম’

Reporter Name / ১২২ Time View
Update : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫

প্রিয়জন ডেস্কঃ গুম, খুন, আয়নাঘরে নির্যাতনের প্রতীকীসহ ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী সরকারের ১৬ বছরের ঘটনাবহুল হত্যার দৃশ্য ঠাঁই পেয়েছে পিলারে পিলারে। বাদ যায়নি গণঅভ্যুত্থানের দিকে ছাত্র-জনতার ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়ার দৃশ্যপটও। রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে ফার্মগেট মেট্রোস্টেশন পর্যন্ত প্রতিটি পিলারে তুলে ধরা হয়েছে এ শিল্পকর্ম।

 

রাজধানীর ব্যস্ততম রুট কারওয়ান বাজার থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারজুড়ে দৃশ্যমান এক অভূতপূর্ব শিল্প-প্রতিবাদ ‘ফিরে দেখা ফ্যাসিস্ট রেজিম’। ব্যতিক্রমী এই গ্রাফিতির মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দমন-পীড়নের নানা নির্মম অধ্যায়।

 

শহরের হৃদপিণ্ডে এমন শিল্পচর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি করানোই যেন মূল উদ্দেশ্য। চোখে পড়ছে গুম, খুন, আয়নাঘরে নির্যাতনের প্রতীকী চিত্র, যেগুলো স্পষ্টতই তুলে ধরছে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের নির্মম বাস্তবতা। প্রতিটি পিলার যেন একেকটি ইতিহাসের দলিল। ২০০৯ থেকে শুরু করে ২০২৪ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া আলোচিত হত্যাকাণ্ড, নিখোঁজের ঘটনা, এবং আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে পরিচালিত দমন নীতির বর্ণনা এই গ্রাফিতিতে রূপ নিয়েছে রঙ ও রেখায়।

 

শিল্পীরা এখানে কেবল রংই করেননি, চিত্রিত করেছেন মানুষের কান্না, বেদনা ও প্রতিরোধের গল্প। নানা রঙের সংমিশ্রণে দৃষ্টিনন্দন এ চিত্র শৈলীতে পিলখানা ট্র্যাজেডি, খালেদা জিয়ার কারাবরণ, সীমান্তের কাঁটাতারে ফেলানীর মরদেহ, শাপলা চত্বরে গণহত্যা, রাতের ভোট, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, রানা প্লাজা ধস, বিরোধী নেতাদের নির্বিচারে গ্রেফতার, কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে হামলা, পুলিশি দমন-পীড়ন, তনু ধর্ষণ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে হত্যা, ক্যাঙারু কোর্ট, নিমতলিতে অগ্নিকাণ্ড, করোনার ভুয়া টেস্ট এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চিত্রসহ বাদ যায় নি কিছুই।

জুলাইকে যেনো মানুষ ভুলে যেতে না পারে তাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে বাস্তবায়ন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ নাগরিক কেউ যেন এ ফ্যাসিবাদকে ভুলে না যায়। ফ্যাসিবাদের চেহারা যেন তারা হাঁটতে চলতে মনে রাখে। সেকারণে এ গ্রাফিতিগুলো করা। শাহবাগ থেকে শুরু করে আগারগাও পর্যন্ত মূল যে সড়কগুলো সেখানে মেট্রো পিলারে আমরা গ্রাফিতিগুলো করছি।’

 

রাষ্ট্রের বুকে অন্যায়, অনিয়ম দুর্নীতি নির্যাতন সাধারণ মানুষের কাছে কেবল অতীত স্মরণের কোনো অধ্যায় হয়ে নয়, বরং থাকুক আগামীর দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক অন্তরালের বার্তা হিসেবেই। তাইতো ৩৬জুলাই স্মরণে ইতিহাস আঁকা হয়েছে দেয়ালে দেয়ালে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।