• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না যমুনা এলাকায় সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়নি: ডিএমপি ইনকিলাব মঞ্চের জাবের ও রাকসুর জিএসসহ আহত অন্তত ২৩ ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে শক্তহাতে প্রতিহত করার আহ্বান জামায়াত আমিরের একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল

মুদি কর্মচারী থেকে ‘সাম্রাজ্যের মালিক’ সাড়ে ৬ কেজি হেরোইনসহ গ্রেপ্তার

Reporter Name / ১৪৫ Time View
Update : বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৩ লাখ টাকাসহ মাদক কারবারি তারেক হোসেনকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মাদারপুর মহল্লায় নিজের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাড়ে ৬ কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে; যার আনুমানিক মূল্য সাড়ে ৬ কোটি টাকা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান চালায়।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, মাদক কারবারি তারেক হোসেন ২০১৭ সাল পর্যন্ত এলাকায় মুদিদোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। হেরোইনের সাম্রাজ্যে ঢুকে পড়েন ২০১৮ সালে। হয়ে উঠেছিলেন গোদাগাড়ীর অন্যতম শীর্ষ মাদক কারবারি। তবে ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এখন তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক। কিনেছেন ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমি। রাজশাহী শহরে কিনেছেন ফ্ল্যাট ও জমি। ১৫০ বিঘা জমিতে রয়েছে মাছের খামার। আছে মার্কেট, চারটি দোকান ও দুটি গরুর খামার। বেনামে আরও সম্পদ আছে তাঁর।

মঙ্গলবার তারেককে গ্রেপ্তারের অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. জিললুর রহমান ও সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট আবু সাদাত মো. সায়েম। অভিযানে অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা ও ২৪ সেনাসদস্য অংশ নেন।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. গোলাম আজম জানান, অধিদপ্তর ও সেনাবাহিনীর যৌথ দল সকালে মাদারপুর মহল্লায় তারেকের বাড়ি ঘেরাও করে। এ সময় তারেক টাকার ব্যাগ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে হাতেনাতে ধরা হয়। এরপর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারেক স্বীকার করেন, গোদাগাড়ীর তিরিন্দা ভাজনপুর গ্রামে তাঁর নিজস্ব একটি মার্কেট ও গরুর খামার আছে এবং সেখান থেকে তিনি আগে হেরোইনের কারবার পরিচালনা করতেন। তখন তাঁকে ওই মার্কেটে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় ওই মার্কেটের একটি স্টোর রুমে রাখা সাড়ে ৬ কেজি হেরোইন পাওয়া যায়।

১৩ লাখ টাকা ও মাদকসহ গ্রেপ্তার মাদক কারবারি তারেক হোসেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

গোলাম আজম বলেন, তারেক হেরোইন চোরাচালানের গডফাদার। চক্রের অন্য হোতাদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আগামীতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মাসুদ হোসেন বলেন, আফগানিস্তানে আফিম নিষিদ্ধ হয়েছে। সেটা পুরোপুরি মিয়ানমারে শিফট হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের বর্ডার আছে, তাই দেশে মাদক ঢোকা সহজ হয়েছে। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বসে নেই। এখন মাদক ধরা পড়ছে বেশি, আইনের আওতায় আসছে কারবারিরা।

সংবাদ সম্মেলনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. জিললুর রহমান জানান, তারেক তাঁদের নজরদারিতে ছিলেন। তারেকের বিরুদ্ধে তিনি বাদী হয়ে মামলা করবেন। এরপর আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।