• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না একাত্তর ও চব্বিশকে নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে: মির্জা ফখরুল আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু

অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে অগ্রাধিকার পাবে

Reporter Name / ১৫৯ Time View
Update : শনিবার, ৮ জুন, ২০২৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে জোরালো প্রস্তুতি চলছে। ঢাকায় ইতোমধ্যে কয়েক দফা আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। আবার গত ৩ জুন চীনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গেও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বেইজিংয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রকল্প সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রাধান্য পেয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের মূল ফোকাস হবে বাণিজ্য ও অর্থনীতি। একদিকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং অন্যদিকে সাময়িক যে সহায়তাগুলো দরকার, সেটির বিষয়ে একমত হওয়া।

দুপক্ষের মধ্যে আট থেকে ১০টি সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত হয়তো পাঁচ থেকে ছয়টি সই হবে বলেও জানান তিনি।

সফরের প্রস্তুতি

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে বরাবরই অনেক প্রত্যাশা থাকে। এর আগেও যেসব সফর হয়েছে, সেগুলোতেও অনেক ধরনের ঘোষণা ছিল। আসন্ন চীন সফর নিয়েও ইতোমধ্যে দুটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। সামনে হয়তো আরও এক বা দুটি বৈঠক হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। সফর নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং চীন থেকেও কিছু খাতভিত্তিক প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছেন।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিনিধিও চীনে আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ঢাকায় চীনের দূতাবাস বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করছে বিভিন্ন সহযোগিতার খাত নিয়ে। কিছু কিছু বিষয় নিয়ে দুপক্ষই প্রস্তুত আছে। আবার কিছু বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে।’

‘আমাদের মধ্যে বৈঠক হয়ে গেছে। এরপর আমাদের দূতাবাস এবং তাদের দূতাবাসের মাধ্যমে আমরা নিয়মিত আলোচনা করতে থাকবো’, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের (চীন) অনুরোধ করেছি, প্রধানমন্ত্রীর সফরের যৌথ ঘোষণার খসড়াটি বেশ আগে দিলে বাংলাদেশ সেটি বিবেচনা করে মতামত দিতে পারে।’

আলোচনায় বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গ

বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বিশাল অঙ্কের বাণিজ্য ঘাটতি আছে। বাংলাদেশকে ৯৮ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও ওই দেশে বাংলাদেশের রফতানি তেমন বাড়েনি। গত বছর বাংলাদেশ প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে এবং পক্ষান্তরে আমদানি করেছে ২ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘চীনে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৯৮ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা তেমন কাজ করছে না। এ বিষয়ে আমরা পুনঃপর্যালোচনার প্রসঙ্গ তুলেছি। এছাড়া ২০২৬ সালের পরেও যেন শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকে, সে বিষয়েও আমরা কথা বলেছি।’

‘অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে টাকা-রুপি অ্যারেঞ্জমেন্ট আছে, সেটির আদলে টাকা-রেনমিনবি (চীনা মুদ্রা) চালু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে’, জানান মাসুদ বিন মোমেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাজেটারি সাপোর্ট এবং বাণিজ্য সাপোর্ট নিয়ে আলোচনা করছি। মোটা দাগে যেটি বলা যায়, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে সমীক্ষা সম্পন্ন হলো, সেটির সমাপ্তি করে নতুন অধ্যায় শুরু করার বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা আছে এবং তারাও এটির বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী।‘

নতুন প্রকল্প

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময়ে নেওয়া ২৭টি প্রকল্পের মধ্যে ১৫টি সম্পন্ন হয়েছে, ছয়টির কাজ চলমান আছে এবং বাকি ছয়টির বদলে নতুন প্রকল্প করারও চিন্তা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমরা কয়েকটি প্রকল্পের কথা বলেছি। তারা সেগুলো নোট করেছেন। এটি সিস্টেমে সময় লাগে। তারা দেখবে, যাচাই-বাছাই করবে এবং ফিজিবিলিটি স্টাডি করবে। এটি যাচাই-বাছাই না করেই তো তারা প্রতিশ্রুতি দেবে না।’

তবে প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই শেষ করতে অনেক সময়ক্ষেপণ হলে এর ফলে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা নষ্ট হয় বলেও উল্লেখ করেন মাসুদ বিন মোমেন। এটি চীনা কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চীন থেকে নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার ২ থেকে ৩ শতাংশ এবং ফেরত দেওয়ার সময় ২০ বছর। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে যে মানদণ্ড আছে, সেটির আদলে ঋণ পরিশোধের বিষয়টি তুলে ধরেছি।’

রোহিঙ্গা সংকট

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনসহ অন্যান্য শক্তির সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমরা তাদের (চীন) বলেছি, মিয়ানমারে বিবদমান পক্ষগুলোর ওপর তাদের যে প্রভাব আছে, সেটি যেন ব্যবহার করে এবং আরাকানে যেন নতুন করে যুদ্ধ না হয় এবং যুদ্ধবিরতি হয়। আমরা চাই না নতুন করে আবার রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসুক। এটি আমরা জোরালোভাবে বলেছি। তারা বলেছে বিষয়টি দেখবে।’

ভূ-রাজনীতি

চীনের সঙ্গে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে জটিল সমীকরণের বিষয়ে বাংলাদেশ ওয়াকিবহাল। এর মধ্যেই বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমরা আগেও যেভাবে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করেছি, এখনও সেভাবেই করবো।’

‘আমরা এই সমীকরণে জাপানকে নিরপেক্ষ একজন বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। জাপানের সঙ্গে যেকোনও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করাটা আমাদের জন্য অনেক সহজ। জাপানের সঙ্গে চীনের বৈরী কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের মধ্যেও অনেক বাণিজ্য হচ্ছে’, উল্লেখ করেন এই কূটনীতিক।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।