• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না রাসিক প্রশাসকের নির্দেশে ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শনে সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি দল রাসিক প্রশাসকের নির্দেশে নগরীর হরিজন পল্লী এলাকার ড্রেনের কাদামাটি অপসারণ কাজ শুরু দিল্লি ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন স্টার্ক রাজশাহীতে নতুন জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম আগামী তিন মাসে যেকোনো বারের তুলনায় বাড়বে রাজস্ব আয়: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র ঈদের ছুটি শেষে বিকেল ৩টায় বসছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন ঈদ উপলক্ষে ট্রেন যাত্রীদের সহায়তায় রাসিক প্রশাসকের ব্যতিক্রমী প্রশংসনীয় উদ্যোগ ‘বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারে বাধা নেই’ দেশের সব পেট্রোল পাম্পে নিয়োগ করা হবে ট্যাগ অফিসার

গুগলের ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশের রোমেল

Reporter Name / ১২৬ Time View
Update : সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১

সময়টা ২০০৬ সাল। ঢাকা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করেন রোমেল। নীলফামারীর ছেলে রোমেল শাহারিয়ার। অনার্স পাশ করার পর সিএ করতে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে গিয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে ডিপ্লোমা শেষ করেন ২০১২ সালে। বেশ কয়েকটি আইটি কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সফলভাবে শেষ করেন বিভিন্ন আইটি প্রফেশনাল কোর্স।

এবার রোমেল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিচ্ছেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ সার্চ ইঞ্জিন ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলে। গত ১০ অক্টোবর তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। আগামী ১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত গুগলের হেড অফিসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে লকার প্রজেক্টে যোগ দেবেন তিনি। নীলফামারী সদর উপজেলার প্রগতি পাড়ায় বেড়ে ওঠা রোমেলের। বাবা ডা. সৈয়দুল আলম মারা গেছেন রোমেলের যখন ৭ বছর বয়স। দুই ভাই-বোনের মধ্যে রোমেল ছোট। বাবা মারা যাওয়ার পর নীলফামারী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের কাছে বড় হন তিনি। ১৯৯৯ সালে নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০০১ সালে ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পড়াশোনা শেষ করে স্টুডেন্ট ভিসায় চলে যান লন্ডনে সিএ পড়তে। কিছুদিনের মাথায় ডিভি লটারির মাধ্যমে সস্ত্রীক পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে প্রথমে পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে ডিপ্লোমা শেষ করে ২০১২ সালে অটোমেশন টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন ডাইরেক্ট টিভি নামে একটি গণমাধ্যমে। এরপর থেকে চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন রোমেল। আইটি প্রফেশনাল হিসেবে বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি। রোমেল শাহারিয়ার বলেন, আমার এ জার্নিটা সহজ ছিল না। এর পেছনে ছিল অনেক ত্যাগ, কঠোর পরিশ্রম আর ডেডিকেশন। আমি আসলে কখনো চিন্তা করিনি গুগলে আমার মতো নন সিএসই ব্যাকগ্রাউন্ডের ছেলে জব পাবে। বাংলাদেশের যে গুটিকয়েক ছেলে গুগলে জব করছে তারা সবাই বুয়েটের ছাত্র। রোমেল শাহারিয়ার বলেন, এ চাকরির জন্য আমার চার রাউন্ডে পরীক্ষা নেওয়া হয়। আমাকে উচ্চমানের ছাত্রদের সঙ্গে কম্পিটিশন করতে হয়েছে। যাদের সবাই সিএসইর ছাত্র। সবচেয়ে মজার ছিল ফাইনাল রাউন্ড বা প্যানেল ইন্টারভিউ। মোট ৫ জন মিলে আমার ইন্টারভিউ নেয়। যার প্রশ্নগুলো সবই ছিল সিনারিও বেসড সমস্যা সমাধান। মোট ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট চলে সেই ইন্টারভিউ। আমার জীবনের এটা ছিল বেস্ট ইন্টারভিউ। যার ফল পরের সপ্তাহে আমি পেলাম। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মানবিক বিভাগের ছেলে মেয়েরা কখনো ডাক্তার হতে পারে না। সেই সিস্টেমই নেই, ঠিক তেমনি কমার্সের ছেলে মেয়েরা বুয়েটে পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা রাখে না। কিন্তু বিদেশে সেটা কাজ করে না যদি আপনার যোগ্যতা থাকে আপনি ইচ্ছা করলে ডাক্তারি পড়তে পারবেন আর আমার মতো কমার্স ব্যাকগ্রাউন্ড হয়েও কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করতে পারবেন। যদি আপনি পরিশ্রম করতে পারেন। এখানে আপনার দক্ষতা আগে দেখা হবে তারপর সার্টিফিকেট। নীলফামারী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন রোমেলকে নিজের সন্তানের মতো করেই বড় করেছেন। তার এই সাফল্যে তিনি খুবই আনন্দিত। তিনি বলেন, রোমেল ছোটবেলা থেকেই খুবই মেধাবী ছিল। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পড়াশোনা করলেও তার নিজস্ব চেষ্টায় সে যে অসাধ্য সাধন করেছে তা প্রশংসনীয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।